টলিউডে বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপ এবং একের পর এক অভিযোগের আবহে এবার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কার মুখে স্বরূপ বিশ্বাস। স্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাস স্বরূপের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দু’জনেই।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই টলিউডে স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বেড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দাদাগিরি, প্রভাব খাটানো এবং ইন্ডাস্ট্রিতে একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সেই আবহেই এবার সামনে এল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের খবর।


ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, স্বরূপ বিশ্বাস এবং জুঁই বিশ্বাস বহুদিন ধরেই আলাদা থাকছিলেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছেন জুঁই। তাঁর কথায়, ২০১৯ সাল থেকেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।
জুঁই বিশ্বাস আরও জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতেই আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের পরিবার এবং ব্যক্তিগত পরিসর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি কোনও চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার বা ইন্ডাস্ট্রির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাও বন্ধ করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টও করেন জুঁই বিশ্বাস। সেখানে তিনি লেখেন, “কর্মতে বিশ্বাসী, সময়ই সব কথা বলবে।” রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত দুই মহলেই সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।


শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, তৃণমূলের অন্দরমহল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুঁই। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ ছিল না। সেই কারণেই দলের একাধিক কাউন্সিলার দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউড এবং রাজনীতির একাংশে স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তারই মধ্যে এই বিচ্ছেদের খবর নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাস এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



