আরজি করে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। শুধুই রাজ্যই নয়, দেশের নানান হাসপাতালের প্রতিবাদে নেমেছেন চিকিৎসকেরা। এই ঘটনায় এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানায় নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানালেন এবং বললেন, বিধানসভায় এই দাবিতে বিজেপি বিধায়কেরা অনড় থাকবেন।
শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে এক মহিলা চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এমনকি তাও পেরিমর্টেম পর্যায়ে, অর্থাৎ, জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি সময়ে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু, পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। দাবি, বিচারবিভাগীয় তদন্তের। তাঁরা সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী রবিবারের মধ্যে পুলিশ সমাধান না করতে পারলে এজেন্সির হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার আরজি করের ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এই ঘটনা সহ্য করে হবে না। নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতেই হবে। আমরা বিজেপির বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি জানাই। স্বাধীনতা দিবসে শেষবারের জন্য পতাকা তুলে বিদায় নিন উনি। আমরা ছাড়ব না। আর সঙ্গে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল যিনি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছেন তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে। প্রাথমিক শুনানিতে মঙ্গলবার রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে আদালত। রাজ্য সরকারের ভূমিকা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।
আজ কলকাতা হাই কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানিতে ‘অমানবিক’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। পাশাপাশি, এও বলা হয়েছে, ‘রাস্তায় তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়নি। হয়েছে হাসপাতালে। তিনি হাসপাতালেরই এক অংশ। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে এসেছে। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে আদালত।” এই মুহূর্তে আদালতের অন্তবর্তী নির্দেশে অপেক্ষা সকলে।



