নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন হবে, এ কথা কমবেশি প্রত্যেক দেশবাসীই জানেন। কিন্তু নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে কিন্তু এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এখনও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই লোকসভা নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণত, এপ্রিল-মে মাসে লোকসভা নির্বাচন হয়। তবে, শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের তারিখ কি এগিয়ে আসবে?
আরও পড়ুনঃ লোক দেখানো সার্কাস! তৃণমূলের ‘দিল্লি চলো’ প্রসঙ্গে কটাক্ষ লকেটের
শনিবার রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে লোকসভা নির্বাচনের তারিখ। ঠিক কী বলেছেন বিরোধী দলনেতা? শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আপার প্রাইমারি পরীক্ষার কথা ঘোষণা করে ২৭ কোটি টাকা তুলেছে রাজ্য সরকার। ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে। পরীক্ষা নিতে খরচ হবে মাত্র ২ কোটি। বাকী ২৫ কোটি টাকা দিয়ে আদলতে মামলা চালাবে তৃণমূল! ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেবে বলেছে। সেই পরীক্ষার ফল কিন্তু বেরোবে না লোকসভা নির্বাচনের আগে। ফেব্রুয়ারিতে হয়ে যাবে লোকসভা নির্বাচন।”

আর শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিন্তু জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, এখনও পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দিল্লির ‘সম্পর্ক’ অত্যন্ত মধুর। তিনি যে দল করেন বর্তমানে, কেন্দ্রেও ক্ষমতায় সেই দল। তাই তাঁর পক্ষে লোকসভার দিন জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

যদি লোকসভা নির্বাচন শুভেন্দু অধিকারীর কথা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে হয়ে যায় তাহলে কিন্তু বেশ কয়েকটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন, কেন এগিয়ে আসছে লোকসভা ভোট? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, লোকসভা ভোটকে এগিয়ে এনে বিরোধীদের প্রস্তুতির সময় কমাতে চাইছে মোদী সরকার। ফেব্রুয়ারিতে যদি ভোট হয়ে যায় তাহলে হাতে আর ৫ মাস।
এগিয়ে আসছে লোকসভা নির্বাচন? ফের একবার ডেডলাইন ঘোষণা করলেন Suvendu Adhikari!
এখনও পর্যন্ত বিরোধীদের অগ্রগতি বলতে জোট গঠন। কিন্তু আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে প্রচার বা নরেন্দ্র মোদীর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে তার কিছুই ঘোষণা হয়নি। এত কম সময়ে সবটা গুছিয়ে করা যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ থেকেই যায়! কারণ, আসন সমঝোতা নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। এখন, শুভেন্দু অধিকারীর কথা মেলে কিনা তার উত্তর কিন্তু সময়ই দেবে।




