নজরবন্দি ব্যুরো: বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দাদা! ২১এর নির্বাচনে বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চিত আসন এই মুহূর্তে নন্দীগ্রাম। ২০১১ সালের পর ২০২১এর নির্বাচনে আবার একবার শিরোনামে উঠে এসেছে তৃণমূলের উত্থানভুমি। প্রতিদিন এই কেন্দ্রকে নিয়েই আবর্তিত হচ্ছে একাধিক ঘটনা। গত ২৯সে ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে শুভেন্দু নাম লিখিয়েছেন বিজেপিতে। তবে তাঁর ভাই এবং বাবা এখনো রয়ে গেছেন তৃণমূলের সাংসদ।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বাসঘাতককে ঢুকতে দেওয়া হবেনা এলাকায়, নন্দীগ্রাম দিবসেই হুমকি শুভেন্দুকে।


একাধিকবার জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাহলে কি এবার দিব্যেন্দু এবং শিশিরও যাবেন গেরুয়া শিবিরে? কিন্তু কখনোই কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই তৃণমূলের তরফ থেকে উগরে দেওয়া হয়েছে ক্ষোভ রাগ। পোষ্টার থেকে সভা মঞ্চ সব জায়গা থেকে বলা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর। কয়েকদিন আগেই পিতা শিশির অধিকারী বলেছিলেন, তাঁকে পিতা হিসেবে শুনতে হয় পুত্র মীরজাফর। প্রয়োজনে পুত্রের পাশে দাঁড়াবেন তিনি।
গতকাল বিজেপি সাংসদ মোদী সভার আমন্ত্রণ জানতে যখন অধিকারী বাড়ি গিয়েছিলেন, তখনো শিশির অধিকারী জানিয়েছিলেন পুত্রের পাশে আছেন তিনি। আর বাইরে বেরিয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বলেছিলেন, আমাদের সমাজে পিতা থাকবে পুত্রের পাশেই, সেটাই কাম্য। আজ দাদার পাশে দাঁড়ালেন ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। ১৪ই মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষ্যে ভাঙাবেড়িয়ায় শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন দিব্যেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান তাঁর দাদা বিশ্বাসঘাতক নন।
বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দাদা! শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। সকলেই পোস্টার পড়ে শুভেন্দু অধিকারীকে এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দিয়ে। আবার তৃণমূলের তরফ থেকে ব্রাত্য বসু গেলে তাঁকে দেখানো হয় গো ব্যাক পোস্টার। যদিও মাল্যদান পর এই বিষয়ে দিব্যেন্দু বাবুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, তিনি শুধু চান শান্তিপূর্ন নির্বাচন হোক বাংলায়। কয়েকদিন আগেই হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এক সরকারি কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন তিনি।


কিন্তু সরকারি কর্মসূচী বলে কোনো জল্পনার সূচনা করতে পারেননি কেউ। তবে আগামী ২৪সে মার্চ বাংলায় আসছেন মোদী। সভা করবেন কাঁথি তে। এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য গতকালই লকেট চট্টোপাধ্যায় অধিকারী পরিবারে গিয়েছিলেন আমন্ত্রণ জানাতে। সেখানে উপস্থিত থাকেন তিনি পরিবারের বাকি দুই সদস্য, আর গেরুয়া শিবিরে যান কিনা সেটাই এখন দেখার। তবে সূত্রের খবর এই সবকিছু ঘটতে পারে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী চাইলেই। তার আগে না।








