ক্রমেই আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশত্যাগ করে এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন ভারতের দিল্লিতে। সোনার বাংলার ক্ষমতা এখন সেনার হাতে! যদিও সেনাশাসনের ২৪ ঘন্টা পার হলেও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশের পরিস্থিতির। মঙ্গলবারও একদিনের মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। জেলায় জেলায় জ্বলছে আগুন। দিকে দিকে মৃত্যুমিছিল। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন তিনি।সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে বাংলাদেশের হিন্দু এবং মন্দির রক্ষার দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি কথা হয়েছে হিন্দু শরনার্থীদের নিয়েও। এদিন দিল্লিতে গিয়ে অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বিকেলে জানান আগে থেকে তিনি সময় চেয়েছিলেন অমিত শাহর কাছে। প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, “এই কারণেই তো প্রয়োজন সিএএ আইন। ভারতবর্ষে এই আইন চালু করার কথা আমরা অনেক আগেই বলেছি। আমার মা ১৯৬৭ সালে বরিশাল থেকে তাঁর বাবা-মায়ের হাত ধরে পালিয়ে দেশে এসেছিলেন। কারণ ছিল এই উগ্র মৌলবাদ। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে কি হয়েছিল সবাই জানে। আজও তাই হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার।”
২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেই সিএএ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। সংসদে পাশ হয় বিলও। চলতি বছর ১১ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করার মাধ্যমে সিএএ কার্যকর করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিল পাশ হলেও কার্যকর করতে লেগে যায় প্রায় চার বছর। এখনও এই আইন নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।
সোমবার বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “এক কোটি শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে আসবে। আপনারা তৈরি থাকুন। আমি তো তৈরি আছি। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে বলব, কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলুন।” অন্যদিকে, বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে আজ সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রমুখ। এই বৈঠকে কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সহমত পোষণ করেছেন বিরোধীরাও।



