বিধানসভায় ধুন্ধুমার, মমতাকে বেলাগাম আক্রমণ শুভেন্দুর, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বিজেপির

বিধানসভায় ধর্ষণবিরোধী কড়া বিল পেশ করল রাজ্য সরকার। এই বিলের নাম 'অপরাজিতা বিল ২০২৪'। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই বিলের ভাষণকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভায় ধর্ষণবিরোধী কড়া বিল পেশ করল রাজ্য সরকার। এই বিলের নাম ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই বিলের ভাষণকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেলাগাম ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অতীতের ধর্ষণের ঘটনায় মমতার মন্তব্য তুলে এনে আক্রমণ শানালেন তিনি। বিজেপির বিধায়কদের তরফে স্লোগান দেওয়া হল, ‘দফা এক দাবি এক, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ’।

মঙ্গলবার বিধানসভায় ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এরপর বিজেপির শিখা ভট্টাচার্য ও অগ্নিমিত্রা পাল বক্তব্য রাখেন। তবে, দু’জনেই সংক্ষিপ্ত ভাষণ রেখেছেন। এরপর শুভেন্দু অধিকারীকে ২৫ মিনিট বলার অনুমতি দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিধায়কেরা আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে সকলেই গলায় কালো উত্তরীয় পড়ে এসেছিলেন।

শুভেন্দু অধিকারী একাধিক সংবাদমাধ্যমের কাটিং তুলে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, কামদুনি ধর্ষণ মামলার পরেও পুলিশ কমিশনারকে রাতারাতি বদলে দেওয়া হয়েছিল। পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণের ক্ষেত্রে মমতা মেয়েটির ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। মমতাকে মাথা নাড়তে দেখা যায়। বিজেপির তরফে ‘শেম শেম’ স্লোগান দেওয়া হয়।

এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘সরকারের আনা এই বিলকে সমর্থন করছি। কিন্তু আপনারা এই বিল আনতে তাড়াহুড়ো করলেন কেন? আমরা চাইলে বলতে পারতাম সিলেক্ট কমিটিতে পাঠান। কিন্তু আমরা শাস্তি চাই। ভোটাভুটি চাইব না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনব। কিন্তু এই বিল দ্রুত কার্যকর করতে হবে সরকার পক্ষকে।’’

শুভেন্দুর পর মমতা বক্তব্য রাখছেন। তাঁর জন্য বরাদ্দ ৪৫ মিনিট সময়। মমতা বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রের তরফে কেন ধর্ষণের ক্ষেত্রে কড়া আইন আনা হচ্ছে না? পাশাপাশি, শুভেন্দুর বিভিন্ন পেপার কাটিং প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পিকারকে অনুরোধ করেন সেগুলির সত্যতা বিচার করবার জন্য। মমতার মতে, এই বিল ঐতিহাসিক। প্রতিবাদ করার সকলের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনই রাজ্য সরকারেরও বলার অধিকার থাকা উচিৎ বলে বিরোধীদের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অপরাজিতা বিল ২০২৪ এরপর রাজ্যপালের কাছে যাবে। তিনি সমর্থন করলে এই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে এবং আগামী দিনে আইনে পরিণত হবে। মমতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার পদত্যাগ চাই। জয় মেয়েদের হোক!”

‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’-এ কী কী বলা হয়েছে?

এক, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে অন্তত ১০ বছর কারাদণ্ড বা যা যাবজ্জীবনের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে জরিমানার বিধানও রয়েছে। এবার রাজ্যের সংশোধনী ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’-এ ধর্ষণের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড। সঙ্গে জরিমানা। এমনকি, মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

দুই, জরিমানার টাকায় নির্যাতিতার চিকিৎসা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ৪৬১ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই জরিমানার টাকা দিতে হবে।

তিন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫ ধারা মুছে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ‘অপরাজিতা মহিলা এবং শিশু (পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ আইন সংশোধনী) বিল ২০২৪’-এ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৬, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ১২৪ ধারাতেও বদল আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চার, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর আইনের ৪৬ নম্বর ধারার ৩ (এ) উপধারায় নতুন ধারা যোগ করে ‘বিশেষ আদালত’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এমনকি প্রতি জেলায় তৈরি করতে হবে এই আদালত, সেখানে ধর্ষণের মামলার বিচার হবে।

পাঁচ, বিচার করবেন রাজ্যের দায়রা বিচারক বা অতিরিক্ত দায়রা বিচারক। কলকাতা হাই কোর্টের সম্মতি নিয়েই চলবে বিচার।

ছয়, অপরাজিতা টাস্ক ফোর্স গঠন করে ধর্ষণের তদন্ত কড়া হবে। সেক্ষেত্রে ৪৬ নম্বর ধারার ৩বি উপধারায় নতুন ধারাকে সংশোধন করার কথা বলা হয়েছে।

সাত, অপরাজিতা বিল অনুযায়ী ধর্ষণের মামলার যতটা সম্ভব তদন্ত করবেন মহিলা অফিসারেরা। তদন্তে ঢিলেমি করলে সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যক্তিরও ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

আট, এফআইআর দায়েরের ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তার মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। তবে তার বেশি নয়। চার্জশিট জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে বিচার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন