আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামল বঙ্গ বিজেপি। স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশ্যে মিছিল করে যাচ্ছিলেন গেরুয়া কর্মী সমর্থকেরা। তার আগেই গ্রেফতার করা হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। আটক করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যকেও। এই মুহূর্তে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সল্টলেকে।
আজ স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও-এর ডাক দিয়েছিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার দুপুর সওয়া ২টো নাগাদ রাজ্য বিজেপি নেতারা মিছিল নিয়ে রওনা দেন স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশে। কিন্তু অনেক আগেই রাস্তার উপরে ব্যারিকেড তৈরি করে রেখেছিল পুলিশ। বিশাল পুলিশবাহিনীও মোতায়েন ছিল। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ বাঁধল পদ্ম নেতাদের। এদিন রাস্তায় নামেন বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট নেতানেত্রী। ছিলেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অর্জুন সিংহ, অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। পুলিশের একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিজেপি কর্মীরা স্বাস্থ্য ভবনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের একটাই দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ।
যদিও মাঝপথেই শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ। এই ঘটনায় কটাক্ষ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এভাবে বিরোধী দলনেতাকে গ্রেফতার করা যায় না। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান।” শুভেন্দু আটক হলেও বিজেপির অন্যান্য কর্মীরা এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁদের প্রতিনিধি দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় কিনা সেদিকেই রয়েছে নজর।
বিজেপির স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। পুলিশের বাসে করে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এই ঘটনায় গর্জে উঠেছেন বিজেপি কর্মীরা। স্বাস্থ্য ভবনের আগে রাস্তায় বসে বিজেপির মহিলা মোর্চা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অগ্রিমিত্রা পাল। স্বাস্থ্য ভবনের ২০০ মিটার আগে শেষ ব্যারিকেড ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রথমে আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত করছিল কলকাতা পুলিশ। তাঁদের হাতেই গ্রেফতার হয় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। এরপর গত ১৩ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়। আজ সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের প্রাথমিক স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার সম্ভাবনা।



