NEET আন্দোলনে বিজেপির পাল্টা বার্তা, ‘যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ’, কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা। আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্যের অবস্থানও স্পষ্ট করল সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশজুড়ে NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলন যখন তীব্র হচ্ছে, তখন পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি (BJP)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গেও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। মোদি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে দোষীরা কোনওভাবেই আর রেহাই পাবে না।” একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার থাকলেও অশান্তির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, NEET প্রশ্নফাঁস মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। সেই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্র সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আর কোনওভাবেই রেহাই পাবেন না।

এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, কোনও ছাত্রকে জোর করে হস্টেল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে আন্দোলনে সামিল করার চেষ্টা হলে প্রশাসন তা মেনে নেবে না।

অন্যদিকে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Ray) অভিযোগ করেন, NEET-কে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক শক্তি অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার কোনও চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

একই সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার (Debjit Sarkar), মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক বিমলশঙ্কর নন্দ (Bimalshankar Nanda) এবং যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস বিশ্বাস (Ashis Biswas) বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্র সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের দাবি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাপস রায়ের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর কেন্দ্র যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নজিরবিহীন। তাঁর আরও অভিযোগ, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে এবং বিদেশি অর্থেরও যোগ থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে NEET-সংক্রান্ত আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) দীর্ঘ অনশনেও সামিল রয়েছেন। শুক্রবার দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। একই দিনে কলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)-ও ওই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এই আবহে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার বা জোরপূর্বক কাউকে আন্দোলনে যুক্ত করার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন