বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে, চাপ বাড়ছে দলের অন্দরে

মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষের হাত ধরে ২০১৮ সালে যেভাবে বিজেপির উত্থান ঘটেছিল রাজ্যে। সেই ভাবেই এখন সুকান্ত - শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপি-র পদস্খলন ঘটেছে বাংলায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল ছেড়ে। বিজেপি পেয়ে গিয়েছিল একজন আপাদ তৈরী নেতা। কিন্তু আচমকাই দেশের সর্ববৃহত রাজনৈতিক দলে বড় যায়গা পেয়ে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর কর্মকান্ডে ক্রমশ রাজ্যে ব্যাকফুটে গিয়েছে বাংলার পদ্ম শিবির। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্রমশ জমি হারিয়েছে রাজ্যে। এই দুই নির্বাচনে বিজেপি সমর্থকদের প্রাপ্তি শুধুই শুভেন্দু অধীকারীর জ্বালাময়ী বক্তৃতা আর মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণ। তাই ক্রমশ চাপ বাড়ছে দলের অন্দরেই। শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে।

বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে, চাপ বাড়ছে দলের অন্দরে

অভিযোগ, তাঁর(শুভেন্দুর) কর্মসূচি আগে থেকে জানতে পারেন না রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতির ডাকা বন্‌ধ তিনিই ঘোষণা করেন আবার মাঝপথে শেষ করে দেন! নিজে নিজেই তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে দেন, দলের কোন পদাধিকারীদের সাথে আলোচনা না করেই। এদিকে প্রকাশ্যে বলে বেড়ান, তিনি সংগঠনের কেউ নন। সম্প্রতি শুভেন্দু বলেছেন, দলের সংখ্যালঘু মোর্চার দরকার নেই। সেই দিনই পাল্টে দেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীর স্লোগান ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। যা নিয়ে লোকসভায়, বিজেপি-কে তুলোধনা করেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। শুভেন্দু নরেন্দ্র মোদীর স্লোগান বদলে দিয়ে বলেছেন, ‘যো হামারে সাথ, হাম উনকে সাথ।’

বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে, চাপ বাড়ছে দলের অন্দরে

তিনি নিজেকে সংগঠনের কেউ নই হিসেবে জাহির করলেও, ঘোষণা করেন একাধিক দলীয় কর্মসূচী। এদিকে রাজ্য স্তরের বৈঠকে প্রায় নিয়মিত গরহাজির থাকেন। থাকেন না রাজ্যের কোর কমিটির বৈঠকেও। কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতারা উপস্থিত না থাকলে শুভেন্দু দলের বৈঠকে সাধারণত হাজির থাকেন না। লোকসভা নির্বাচনের পরে গত ১৫ জুনের কোর কমিটির বৈঠকেও তিনি ছিলেন না। কদিন আগেও বিজেপিতে যাঁরা শুভেন্দুর ‘ভক্ত’ ছিলেন, তাঁরাই এখন শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনা করছেন।

বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে, চাপ বাড়ছে দলের অন্দরে

বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরানো হতে পারে শুভেন্দু কে, চাপ বাড়ছে দলের অন্দরে

মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষের হাত ধরে ২০১৮ সালে যেভাবে বিজেপির উত্থান ঘটেছিল রাজ্যে। সেই ভাবেই সুকান্ত – শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপি-র পদস্খলন ঘটেছে বাংলায়। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে নিজের আসন কোওমতে জিতলেও রাজ্যের সর্বত্র ব্যাপক ভাবে পরাজিত হয় বিজেপি। শুভেন্দু ২০২৪ লোকসভার প্রচার পর্বে বলেন, সেবার তিনি অনভিজ্ঞ ছিলেন বিজেপি-তে। রাজ্যের অন্য যায়গায় প্রচার করতে পারেননি সেভাবে। কিন্তু লোকসভায় তিনি দিনে ৪-৫ টি করে জনসভা করছেন। তাই ২৪ নির্বাচনে রাজ্য থেকে কমপক্ষে ২৫ টি আসন পাবে বিজেপি। যদিও গতবারের ১৮ আসনের তুলনায় ৬ টি আসন কমে এবার বিজেপি নেমে গিয়েছে ১২ তে!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন