কলকাতা: গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনার মাঝেই রাজ্য বিধানসভায় প্রকাশ্যে সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। বিরোধী বেঞ্চে বক্তাদের তালিকা ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ককে হাতিয়ার করে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দ্বন্দ্বে কড়া কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
গুন্ডাদমন বিলের আলোচনা ছাপিয়ে রাজনৈতিক তরজা
সোমবার বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই বিরোধী দলের বক্তাদের তালিকা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেই বিতর্ককে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন।
‘মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সূত্রপাত আগের সরকারের আমলে হলেও পরবর্তী সময়ে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর দাবি, সেই কারণেই জনগণ বিরোধী দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আজ নিজেদের অবস্থান নিয়েই বিভ্রান্ত। তাঁর মন্তব্য, “কেউ বলছেন আমি তৃণমূল, আরেকজন বলছেন ওরা ল্যাম্পপোস্ট। তাই আপনাদের এই দশা।” এই মন্তব্যের পর শাসকদলের বেঞ্চে হাসির রোল ওঠে।
কীভাবে শুরু হল বিতর্ক?
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিল নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিধায়কদের তালিকা আগেই স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের দফতর থেকে পাঠানো তালিকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল।
সূচি অনুযায়ী বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি নিজের দলের পরিচয় দিতে গিয়ে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ বলেন। এরপরই শাসকদলের সদস্যরা আপত্তি জানান এবং কক্ষজুড়ে হট্টগোল শুরু হয়।
শাসকদলের একাধিক সদস্য কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধী শিবির আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাক, তারপর বিধানসভায় আলোচনা করুক।
পরিষদীয় মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh) বলেন, বক্তাদের তালিকা সরকার তৈরি করে না। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক যে তালিকা স্পিকারের কাছে পাঠান, সেই তালিকা অনুযায়ীই নাম ঘোষণা করা হয়।
তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলের অভ্যন্তরীণ আপত্তি থাকলে তা দলের মধ্যেই মেটানোর পরামর্শ দেন।
বক্তব্য রাখলেন না শোভনদেব
স্পিকার বক্তব্য রাখার অনুরোধ করলেও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ তাঁকে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানালেও তিনি রাজি হননি।
এরপর গুন্ডাদমন বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। পরে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে আবারও বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণ শানান।
বিধানসভার বিতর্কে যা ঘটল
- গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল।
- বক্তাদের তালিকা ঘিরে শুরু হয় বিরোধ।
- শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য না রেখেই বসে পড়েন।
- শাসকদলের তরফে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে কটাক্ষ করা হয়।
- পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণ করেন।
গুন্ডাদমন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে আলোচনা চললেও, বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই দিনের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই সরকারপক্ষ বিরোধীদের তীব্রভাবে আক্রমণ করে।






