নজরবন্দি ব্যুরো: বুধবার সকাল থেকে চলছে ১০৮ টি পুরসভার নির্বাচনের গণনা। সবুজ ঝড়ে কার্যত ধুলিসাৎ হয়েছে বিরোধীরা৷ একেবারে সমীকরণ বদলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে বিজেপির অস্তিত্ব নিয়ে৷ তাও একেবারে কাঁথিতে। যেখানে নিজের গড় রক্ষায় ব্যর্থ বিরোধী দলনেতা। রাজ্য বিজেপির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেজায় অখুশি দিল্লির নেতারা।


১০৮ পুরসভার মধ্যে কাঁথি ছিল সকলের নজরে। লড়াই এখানে অধকারী পরিবার বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের ছিল। কারণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিজেপির প্রত্যেকটি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত৷ বাবা শিশির অধিকারী বিজেপির প্রার্থী নয়, শুভেন্দুর প্রার্থী হিসাবেই ভোট চেয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন ছেলে শুভেন্দু অধিকারী নজরবন্দি থাকার কারণে শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট লুঠ নিয়ে সরবও হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও প্রয়াস ধোপে টেকেনি। এমনকি হারতে হয়েছে উত্তর কাঁথির বিজেপি বিধায়কা সুমিতা সিনহাকে।
২১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭ টি ওয়ার্ডে এগিয়ে এবং জয়লাভ করেছে তৃণমূল। এ যেন অধিকারী পরিবারে কার্যত ধস নামল। দীর্ঘদিন ধরে এই পুর এলাকায় অধিকারীদের নামেই ভোট পড়ত। এমনকি বাম জমানাতেও নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছিল তাঁরা। এখন সেখানেই খালি হতে ফিরতে হচ্ছে তাঁদেরকে? পুরভোটের এই সমীকরণে দিশেহারা রাজনৈতিক কারবারিরা।
এপ্রসঙ্গে নন্দীগ্রামের বিধায়কের অভিযোগ, তৃণমুলের দলীয় কার্যালয় থেকে র্যাফের পোশাকে হামলা চালানো হয়েছে। গিমাগেরিয়া, হিনচি, বাঁধিয়া, গড় সাউড়ি, বেতালিয়া থেকে কারা এসেছিল? ওই অফিস থেকেই বোমার মশলা সরবরাহ করা হয়েছিল।


উল্লেখ্য, কাঁথি পুর নির্বাচনের গণনা নিয়ে মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরির বিরুদ্ধে বিরোধী দলের এজেন্টদের ওপর মারধরের অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রার্থীকে মারধর করে বুথ দখল করার অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে। এমনকি নির্বাচনের দিন ৯১ টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙার অভিযোগ ওঠে।
গড় রক্ষায় ব্যর্থ বিরোধী দলনেতা, কাজে আসল না অধিকারী জাদু

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কাঁথি পুরভোট গণনা বন্ধ করা যাবে না। তবে মামলার ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করবে কাঁথি পুরসভার ফলাফল। কমিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে হলফনামা চেয়েছে আদালত। সব মিলিয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে সবুজের ঝড় বইলেও পুরসভা দখল তৃণমূলের জন্য সহজ হবে না। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







