নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কখনও তিনি বলেছেন, একাধিক বিধায়ক যোগাযোগ রাখছে। আবার কখনও বলছেন বছর শেষেই সরকার বদল হতে চলেছে বাংলায়। এবার আরও এক বোমা ফাটালেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের কথায়, তৃণমূলের ৮০ শতাংশ লোকের সমর্থন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফাইটার জেট রক্ষণাবেক্ষণ করতে পাকিস্তানকে বিপুল অর্থ সাহায্য আমেরিকার, ক্ষুব্ধ ভারত
শনিবার শিল্পনগরী হলদিয়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর উদ্বোধন করতে যান শুভেন্দু। সেখান থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এসপি কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা৷ তিনি বলেন, এখানকার মানুষ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এই কর্মসূচীর আয়োজন করেছেন। হলদিয়া থেকে শ্রমিকদের অধিকার তো কেড়ে নেওয়া হয়েছে অনেক দিন আগেই। বর্তমানে পুলিশের রাজত্ব চলে৷ নিজেদের অধিকারের কথা বলতে গিত্যে বাস্তহারা হতে হয়েছে শ্রমিকদের।
তিনি বলেন, ৮০ শতাংশ তৃণমূলের লোকদের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করেন, বাইরে থেকে বুঝতে পারবেন না। আমি ঠিক সময়ে সিগন্যাল দেবো। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুরে আলোড়ন পড়ে গেছে।

এদিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে ও হলদিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাহুল পাণ্ডে। তাঁদের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর বক্তব্য, ওরা কার্বাইড দিয়ে পাকানো মাল৷ তবে দালালগুলো কিছু করতে পারবে না। তাঁর কথায়, এই সরকারের আমলে হলদিয়ার বিস্কুট কোম্পানি ছাড়াও রাজ্যের একাধিক কোম্পানি বন্ধ হয়েছে। এই সরকারের আমলে শুধুই বন্ধ হয়েছে। বাবা বিশ্বকর্মা পশ্চিমবঙ্গকে একটু দয়া করো?
কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী খড়গপুরের কর্মসূচি নিয়ে বলেন, আমার কথা শুনে অনেকেই টিটকিরি দেন। আমি বলছি, আপনি এক হাজার টাকা নিন, তা দিয়ে একটা কেটলি কিনুন আর কয়েকটা মাটির ভাঁড় নিন। সঙ্গে কিছু বিস্কুট রাখুন। আস্তে আস্তে বাড়বে। প্রথম সপ্তাহে বিস্কুট নিলেন, তারপরের সপ্তাহে মাকে বললেন, একটু ঘুগনি তৈরি করে দাও। তারপরের সপ্তাহে একটু তেলেভাজা করলেন। একটা টুল আরেকটা টেবিল নিয়ে বসলেন। এই তো পুজো আসছে, দেখবেন লোককে দিয়ে কুলোতে পারবেন না। আজকাল এত বিক্রি আছে। কোনও কাজ জীবনে ছোট নয়। যত বড় মানুষ আছেন তাঁরা সকলেই মাটি থেকে উঠেই বড় হয়েছেন, এটাই তাঁদের কাহিনি। এটাই তাঁদের গর্ব।
তৃণমূলের ৮০ শতাংশ লোকের সমর্থন রয়েছে, ফের বোমা ফাটালেন শুভেন্দু

সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বড় মাপের বিশ্বকর্মা পুজো হয়৷ অথচ কোথাও দেখলাম না চপ ও ঘুগনির দোকান রয়েছে! একই সঙ্গে সিআইডির ভূমিকা নিয়ে কার্যত নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, সিআইডি হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাগর। ভাইপোর কথায় চলছে৷



