নজরবন্দি ব্যুরোঃ অভিষেকের অফিসে সুস্মিতা দেব। আজ সকালেই তিনি ট্যুইট করে নিজের বায়োতে লিখেছিলেন, ‘কংগ্রেসের প্রাক্তন সদস্য’। জল্পনা শুরুর কয়েক ঘন্টার মাথাতেই কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে জানান দলত্যাগের কথা।
আরও পড়ুনঃ সনিয়াকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেস ছাড়লেন সুস্মিতা, প্রাক্তন সাংসদের তৃণমূল যোগের জল্পনা তুঙ্গে
তিন দশকের সম্পর্ক শেষে সন্তোষ কন্যা লেখেন, ‘জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে তিন দশকের সম্পর্ক শেষ করছি। আমার পাশে থাকার জন্য সতীর্থ ও দলের নেতা-মন্ত্রীদের ধন্যবাদ। তিন দশকের স্মৃতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’ দলের একনিষ্ঠ কর্মী, সন্তোষ দেবের কন্যা, শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ এবং মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীর দলরত্যাগের পরেই জল্পনা উঠেছিল এবার হাতের হাত ছেড়ে ঘাসফুলের ঘরে ভিড়বেন তিনি।
অভিষেকের অফিসে সুস্মিতা, জল্পনা আজই তৃণমূল যোগ নিয়ে।

কারণ হিসেবে ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছিল, সন্তোষ দেবের পর থেকেই ভাঙছিল শিলচরের কংগ্রেসের ঘর। দলের দৈন্য দশায় হতাশ সুস্মিতার বনিবনাও হচ্ছিল না কিছু ক্ষেত্রে। সেদিকে বাংলায় ‘নিজের মেয়ে’ ট্যাগে মমতার ফিরে আসার পর সুস্মিতাকে ‘আসাম তার নিজের মেয়েকেই চায়’ তত্বে দলে টানবে তৃণমূল।
সনিয়া-রাহুল ঘনিষ্ট তথা প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবের ইস্তফার পরই দলের ভিতরে ডামাডোল শুরু হয়ে যায়। খবর ছিলই আজ সকালে দলত্যাগ করেই আসছেন কলকাতায়। জল্পনা ছিল সন্তোষ কন্যা নবান্ন গিয়ে দেখা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তবে প্রথমেই কলকাতা এসে তিনি উঠেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে।

কিছুক্ষণ আগের সূত্রের খবর মোতাবেক, ক্যামাক স্ট্রিটে বৈঠক চলছে উভয়ের। এক পক্ষ মনে করছে এই মুহুর্তে সুস্মিতাকে দলে টেনে ত্রিপুরার সাংগঠনিক কাজে লাগাবে মা-মাটি-মানুষের দল। পিতা সন্তোষমোহন দেবের সূত্রে ছোট থেকেই ত্রিপুরার রুটম্যাপ জানা শিলচরের প্রাক্তন সাংসদের। সেই রুটম্যাপকে কাজে লাগিয়েই এবার ঘুঁটি সাজাবে তৃণমূল কংগ্রেস।

সুস্মিতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্পষ্ট ধারণা নেই কংগ্রেসের ভেতরেও। কেউ নিশানা করছেন দলের উচ্চপক্ষকে, কেউ বা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরেজওয়ালা জানিয়েছেন, “সুস্মিতা ভালো মানুষ। ভালো রাজনীতিক। তিনি কেন আচমকা দল ছাড়লেন তা আমাদের জানা নেই। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি এখনও সুস্মিতার পদত্যাগপত্র পাননি। সুস্মিতার মোবাইল ফোন বন্ধ। তার সঙ্গে কথা না বলে দল কোনও মন্তব্য করবে না।”



