কার্গিল যুদ্ধের স্মৃতি এখনও সেনা ইতিহাসে উজ্জ্বল। সেই যুদ্ধের ২৭ বছর পরে ভারতীয় সেনার গোলন্দাজ শক্তিতে যোগ হতে চলেছে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। পিনাকার বিকল্প হিসেবে সেনাবাহিনী পেতে চলেছে আরও বিধ্বংসী, আরও দূরপাল্লার মাল্টি ক্যালিবার রকেট লঞ্চার সিস্টেম—‘সূর্যাস্ত্র’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির জন্য পুণের বেসরকারি সংস্থা NIBE Limited-এর সঙ্গে ২৯৩ কোটি টাকার চুক্তি সই হয়েছে। ইজ়রায়েলি প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এই সিস্টেম ভারতীয় সেনার আর্টিলারি ক্ষমতায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে।
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা Elbit Systems-এর সহযোগিতায় নির্মিত ‘সূর্যাস্ত্র’ মাল্টি ক্যালিবার রকেট লঞ্চার সিস্টেম প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের দাবি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদে এই সিস্টেমের ত্রুটির সম্ভাবনা পাঁচ মিটারেরও কম। অর্থাৎ, দীর্ঘ পাল্লা ও নিখুঁত আঘাত—এই দুইয়ের যুগলবন্দিতে সূর্যাস্ত্রকে ভারতীয় সেনার ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যাস্ত্র যুক্ত হলে Indian Army-র গোলন্দাজ কোরের ক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। সীমান্তের ওপারে শত্রুপক্ষের ঘাঁটি, বাঙ্কার কিংবা কৌশলগত পরিকাঠামোয় দূর থেকেই কার্যকর আঘাত হানার সক্ষমতা পাবে সেনা। আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজন অনুযায়ী এই রকেট লঞ্চার সিস্টেম দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং একাধিক ক্যালিবারের রকেট ছোড়ার ক্ষমতা রাখে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার গ্রাড বিএম-২১ রকেট লঞ্চারের বিকল্প হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছিল পিনাকা। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে শিবের ধনুকের নামানুসারে নামকরণ করা এই সিস্টেম পাকিস্তানি সেনার পাহাড়ি বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পরবর্তী বছরগুলিতে একাধিক ধাপে পিনাকার আধুনিকীকরণ হয়। বর্তমানে ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পিনাকার উন্নততম সংস্করণের পাল্লা প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সেই তুলনায় সূর্যাস্ত্রের পাল্লা ও ধ্বংসক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি—যা একে পিনাকার প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরছে।



