চুক্তিপত্র বা ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ কোনও স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ করতে পারে না।
সম্পত্তি হস্তান্তরের একমাত্র বৈধ উপায় হলো বিক্রয়ের দলিল ও তার নথিভুক্তিকরণ। সাম্প্রতিক এক মামলায় এই স্পষ্ট বার্তাই দিল সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লির দুই ভাই, রমেশ চন্দ এবং সুরেশ চন্দের মধ্যে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সুরেশ দাবি করেন, তাঁদের বাবা মৃত্যুর আগে সম্পত্তি তাঁর কাছে বিক্রি করে গিয়েছিলেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি আদালতে পেশ করেন একটি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র (Agreement for Sale), একটি General Power of Attorney এবং হলফনামা।


কিন্তু দাদা রমেশ এই দাবি চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রথমে নিম্ন আদালত এবং পরে দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে রমেশ ন্যায় পান। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়।
শীর্ষ আদালত রায়ে জানায়:
১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং ১৯২৫ সালের ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত হয় কেবল বৈধ বিক্রয় দলিলের মাধ্যমেই। শুধুমাত্র চুক্তিপত্র, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা বিক্রয়ের সম্মতিপত্র মালিকানার প্রমাণ নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ করতে তিনটি শর্ত বাধ্যতামূলক—
লিখিত বিক্রয় দলিল, সঠিক প্রত্যয়িত দলিল এবং তার নথিভুক্তিকরণ।


এই শর্তগুলি পূরণ না হলে কোনও সম্পত্তি বৈধভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে বলে ধরা যাবে না। তাই রমেশের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সুরেশের সমস্ত নথি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বস্তুত, চলতি বছরের শুরুতেও সুপ্রিম কোর্ট একই রকম রায় দিয়েছিল। এক মামলায় বলা হয়েছিল, নথিভুক্ত বিক্রয় দলিল ছাড়া সম্পত্তির মালিকানা বদল হয় না। শুধুমাত্র টাকা দেওয়া-নেওয়া বা চুক্তি করলেই মালিকানা পরিবর্তন হয় না।
এই রায় আবারও প্রমাণ করল যে, সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘Power of Attorney’ বা সাধারণ চুক্তি নয়, একমাত্র বৈধ বিক্রয় দলিলই মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ।








