শিশু পর্নোগ্রাফি নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বলা হল, শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং তা সংরক্ষণ করে রাখা দুইই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং তা নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য নূন্যতম পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হবে এবং তা প্রচার করলে জরিমানা-সহ সর্বাধিক সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
বর্তমান সময়ে পর্নোগ্রাফি দেখা যেন একটা নেশায় পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র যুব সমাজই এর প্রতি আসক্ত তা নয়, আজকাল প্রায় সমস্ত বয়সের মানুষ বিনোদনের মতো করে পর্ন দেখেন। সম্প্রতি ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে ফোনে শিশু পর্নোগ্রাফি ডাউনলোড করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় মাদ্রাজ হাই কোর্ট শিশু সুরক্ষা আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না, এরকম মন্তব্য করে।


সোমবার মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং ফোনে ডাউনলোড করে রাখা, এই দুইই পকসো আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য নূন্যতম ৫ হাজার টাকার জরিমানা হতে পারে। এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
আবার কোনও ব্যক্তি যদি শিশু পর্নোগ্রাফির প্রচার করেন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে জরিমানা সহ তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ফের একই অপরাধ করলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি, সংসদে পকসো আইন সংশোধনের পরামর্শও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ না ঘটে। আজ শীর্ষ আদালতের এই রায়কে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।







