উত্তরবঙ্গ বলতেই প্রথমে মাথায় আসে পাহাড় আর চা-বাগানের কথা। চা-বাগানের ওপর নির্ভর করে বেশিরভাগ মানুষের রুটিরুজি। এদিকে যদি সেই চা-বাগানই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়তে হয় পাহাড়বাসীকে। আলিপুরদুয়ারে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে বেশ কিছু চা-বাগান। সেই চা-বাগান অবিলম্বে খোলার দাবিতে বৃহস্পতিবার পথে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
আরও পড়ুন: শিশুদের বেডে কালীঘাটের কাকু কেন? SSKM-রাজ্য সরকারের হলফনামা চাইল হাই কোর্ট
আলিপুরদুয়ারে আজ প্রতিবাদ মিছিলে নামল বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন সুকান্ত মজুমদার। বন্ধ চা বাগান অবিলম্বে খোলার দাবি এবং বিভিন্ন দুর্নীতি সহ ৭ দফা দাবি আদায়ের জন্য জেলা শাসকের দফতর ঘেরাও করলেন গেরুয়া কর্মীরা। এদিন আলিপুরদুয়ার বিএমজি ক্লাব ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় জেলা শাসকের দফতরের সামনে।

মিছিল শেষে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তিনি বলেন, “আলিপুরদুয়ারে ১০ খানা চা বাগান বন্ধ। আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই চা বাগানগুলি খুলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন চা বাগানের কর্মীরা ভালো আছে। এ কথা কতটা সত্যি? কিছু দিন আগে উনি (পড়ুন মুখ্যমন্ত্রী) উত্তরবঙ্গ এসে ছবি তুলে গেলেন। সেই সময় অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে চা শ্রমিক মারা গেলেন। এর দায় কে নেবে?”

পাশাপাশি তিনি বলেন, “আদিবাসী মানুষদের প্রতি কোন সম্মান নেই মুখ্যমন্ত্রীর। বিজেপি সরকার আদিবাসী মহিলাকে রাষ্ট্রপতি করেছে। সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে মমতা-সরকার। এক একটা চা বাগান বন্ধ হলে ৩ হাজার শ্রমিক পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে কাজ খুঁজতে যায়। চা বাগানের মালিকদের বাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশে। তাই তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। শ্রমিকদের হকের পাওনা মেটাতে হবেই। মাত্র ১৫০০ টাকায় কীভাবে সংসার চালাবে বাগান শ্রমিকরা? এই উত্তর দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।”

বন্ধ চা বাগান, অবিলম্বে খোলার দাবিতে সুকান্তর নেতৃত্বে আলিপুরদুয়ারে প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির
এদিন সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বার্লা, কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা, রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মণ, কোচবিহারের বিধায়ক সুশীল বর্মণ প্রমুখ।



