নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাইকোর্টের রায়ে চাকরি বাতিল হয়েছে ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। এদিন নবান্নে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার কাছে প্রচুর ছেলে মেয়ে ফোন আসছে, ৩৬ হাজার ছেলেমেয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। দু লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে গেছেন। অনেকে ডিপ্রেশনে ভুগছেন। আমাকে অনেক আবেদন করছেন আমাকে বাঁচান। আমরা আবার ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছি।”
আরও পড়ুনঃ পাশে আছি! চাকরি বাতিলের নির্দেশে ডিএ আন্দোলনকারীদের নিশানা মমতার
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্য সরকারের গাফিলতিতেই ৩৬,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি যেতে বসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হুগলির সপ্তগ্রামে এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার আদালতকে ঠিক মতো নথি দিলে এত লোকের চাকরি যেত না।

এদিন সুকান্তবাবু বলেন, ‘এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা শুধুমাত্র প্রশাসনের গাফিলতিতে কাজ হারিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলি আদালতের নির্দেশকে গুরুত্ব দেয়নি। আদালত যে সব নথি চেয়েছে তা জোগাড় করে দেয়নি। আমি বিশ্বাস করি এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের নিয়োগের সঙ্গে টাকা পয়সার সম্পর্ক নেই। তাদেরও চাকরি গিয়েছে কিন্তু রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই।’
সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ‘এখন রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষের টাকায় মামলা লড়া হবে। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চে ঠিক মতো নথি পেশ করলেই তো সমস্যা মিটে যেত। শুধুমাত্র যারা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছে তাদেরই চাকরি যেত। কিন্তু এখন তো যোগ্য – অযোগ্য সব মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।’
অযোগ্যদের চাকরি বাঁচাতে জনগনের টাকায় ডিভিশন বেঞ্চে কেন? সুকান্ত

শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট ৩৬০০০ প্রাথমিক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশিক্ষণ না থাকায় ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতির কারণে এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন আগামী ৩ মাসের মধ্যে যোগ্যদের নিয়োগ করতে হবে।



