নজরবন্দি ব্যুরো: শুভেন্দুর বাম স্ততি থমকালো মোদির শঙ্কায়! নির্বাচনের আগে দফায় দফায় চলছে সভা মিছিল। পাল্লা দিয়ে চলছে বৈঠক। এই পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতি মাসেই রাজ্য সফরে আসছেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী। রবিবার হলদিয়ায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে সভা থেকে তিনি বলেন আসন্ন বাংলার নির্বাচনে একে অপরের প্রতিপক্ষ তৃণমূল বিজেপি। তিনি এও বলেন, ‘এবার আসল লড়াই হবে তৃণমূলের সাথে।’ পাশাপাশি বামেদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বাম-কং জোটের আজকের আলোচনা সদর্থক, জানালেন বিমান বসু
বামেরা ত্রিপুরার সর্বনাশ করছিল কিন্তু বিজেপি সরকারের এসে ত্রিপুরা কে সাজিয়ে তুলেছে। সোনার ত্রিপুরা গড়ে উঠেছে এখন। পাশাপাশি কেরলে বাম-কংগ্রেসের গোপন সমঝোতার কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন ৫ বছর লুটে খায় বামেরা পরের ৫ বছর লুঠ করে কংগ্রেস! অন্য কারও যায়গা নেই। পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষেত্রে মোদি বাম কংগ্রেসের সাথে তৃণমূলের গোপন চক্রান্ত খুঁজে পান।
তিনি বলেন, “পর্দার আড়ালে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সমঝোতা চলছে। দিল্লিতে একসঙ্গে বসে রণকৌশল তৈরি করেন এঁরা। কেরলে তো বাম-কংগ্রেসের সমঝোতা রয়েছে, যে ৫ বছর তোমরা লুঠপাট চালাও, ৫ বছর আমরা চালাব। এখানে তৃণমূলও সেই ষড়যন্ত্রে শামিল। তাই বাম-কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।”
শুভেন্দুর বাম স্ততি থমকালো মোদির শঙ্কায়! এদিকে সম্প্রতি তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই বাম-কংগ্রেস সমর্থনদের দলে টানার চেষ্টা করেছিলেন শুভেন্দু। তাকে বার বার বার্তা দিতে শোনা গেছে, রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে হারাতে বিজেপিকে ভোট দিন। কিন্তু এদিনের সভায় মোদির গলায় শোনা গেলো এক অন্য সুর। মোদির অভিযোগ, রাজ্যে ম্যাচ ফিক্সিং চলছে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল তিন দলের মধ্যে। দিল্লীতে গোপনে বৈঠক চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে পরিস্কার তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল প্রতিপক্ষ ভাবলেও বাম এবং কংগ্রেসকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
এদিন হলদিয়ার সভায় মোদির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এর প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “বামেদের সঙ্গে নয়, ম্যাচ ফিক্সিং হচ্ছে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীরও চিন্তা হচ্ছে বামেদের নিয়ে! এতদিন শুভেন্দু অধিকারী, সৌগত রায়রা যা বলছিলেন, এখন তা নরেন্দ্র মোদীর গলাতেও শোনা হচ্ছে। বামেরা কোথায় আছে? তাদের তো মাইক্রোস্কোপে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাহলে তাদের নিয়ে এত চিন্তা কেন প্রধানমন্ত্রীর?



