নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৪টি ভাষা জেনেও অহঙ্কার নেই মুখ্যমন্ত্রীর, গুলবাজ আখ্যা দিলেন সুজন! গতকাল নবান্নে সাংবাদিক সন্মেলন করে রাজ্য সরকারের কাজের হিসেব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান আগামী দিনে কৃষক, তাঁতিদের জন্য কি কি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। বাম-বিজেপিকে একসুরে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কিছুটা মজা করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা পজেটিভ নিউজ দেখান, শুধু নেগেটিভ দেখালে হবে? আমরা যেটা ভালো করছি সেটাও দেখান এতে মানুষের মধ্যে ভালো বার্তা যাবে।
আরও পড়ুনঃ ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে রাতভোর বিক্ষোভ, অনশনের পথে উচ্চ-প্রাথমিক হবু শিক্ষকরা!
তাঁর রোজগার নিয়ে প্রায়ই কতাক্ষ করেন বিরোধী দলের নেতারা, সেই প্রসং টেনে এনে তিনি বলেন, আমি একটু আঁকি এত হিংসা? আমার দলকে আমি যদি কিছু দিয়ে সাহাজ্য করি আপনাদের আপত্তি কোথায়? সিপিআইএমের লজ্জা থাকা উচিৎ। বিজেপির সবথেকে বড় বন্ধু হচ্ছে সিপিআইএম। আমি বামপন্থী বন্ধুদের বলছি আপনারা এই সিপিআইএমকে চেনেন না। বুদ্ধ বাবু, জ্যোতি বাবুর সময় সিপিআইএম এমন ছিল না।পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি তথা কেন্দ্র কে আক্রমণ করে বলেন, আমাদের কাছে আমফানের হিসেব চাওয়া হচ্ছে কিন্তু পিএম কেয়ার্স ফান্ডে কত টাকা জমা পড়েছে সেটার হিসেব কাউকে দেওয়া হচ্ছে না। ভাত দেওয়ার নাম নেই কিল মারার গোঁসাই।
১৪টি ভাষা জেনেও অহঙ্কার নেই মুখ্যমন্ত্রীর! নাম না করে প্রধানমন্ত্রী কে কটাক্ষ করে মমতা বলেন বক্তৃতা করতে আমার টেলিপ্রম্পটার লাগেন! তিনি বলেন, আমি গুজরাতি ভাষা জানি, আমি যখন গুজরাটে যাব তখন আমি গুজরাতি ভাষায় কথা বলব। আমি ভিয়েতনামি ভাষা জানি, ভিয়েতনাম গিয়েছিলাম তখন শিখেছিলাম। আমি মণিপুরি ভাষা জানি, আমি রাশিয়ান ভাষা জানি সামান্য। তিনি আরও বলেন আমি নাগামিস ভাষা জানি, অসমিয় ভাষা জানি, আমি নেপালি জানি, আমি উর্দু ভাষা জানি, আমি হিন্দি ভাষা জানি, আমি বাংলা ভাষা জানি, আমি নেপালি জানি, আমি মারাঠি জানি, আমি পাঞ্জাবি ভাষা জানি। তাই বলে এটা নিয়ে আমি কখনো গর্ব করিনা। বরং আমি গর্ব করি যদি তাঁদের কথা একটু বুঝতে পারি। এরজন্য আমি যেখানে যাই সেখানে গিয়ে আমি তাঁদের ভাষায় বলার চেষ্টা করি, তাঁদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি।
এই প্রসঙ্গে আজ সিপিআইএম নেতা তথা যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে। এদিন সুজন ট্যুইটে মমতার ভাষনের ভাষা সম্বন্ধীয় অংশের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “পাড়ার মোড়ের বিভিন্ন ঠেকে বাতেলাবাজ পাওয়া যায়। ওদের কথা ছেলেরা মন দিয়ে শোনে, আর ফিকফিক করে হাসে। সময়টা ভালোই কেটে যায়। পরে শুধুই স্বগতোক্তি। ‘গুলবাজ দি গ্রেট’।”



