আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম থেকেই সিবিআই তদন্তের সায় ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকি সোমবার নিহত চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেও তিনি কার্যত পুলিশকে এক সপ্তাহের ডেডলাইন বেঁধে দেন। এবং বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হলে সিবিআই আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তভার গ্রহণ করবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যতে সন্তুষ্ট নয় বামেরা। সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মমতার বিরোধিতা করে বললেন, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের পর আর সিবিআই তদন্তের কেন দাবী করছেন মুখ্যমন্ত্রী?
আরজি করে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। টানা চার দিন ধরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা। শহরের নানান প্রান্তে লাগাতার চলছে আন্দোলন, বিক্ষোভ। এই ঘটনায় কেবলমাত্র সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ না কেউ জড়িত থাকতে বলে থাকতে পারে বলে সন্দেহ আন্দোলনকারীদের। কিন্তু তাঁদেরকে কলকাতা পুলিশ আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। ‘রাঘববোয়াল’-কে বাঁচাতে ‘চুনোপুঁটি’-কে সামনে আনা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।


এই বিষয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “পুলিশের তরফে প্রথমে বলা হল এই ঘটনাটা আত্মহত্যা! তারপর তড়িঘড়ি মেয়েটার দেহ পুড়িয়ে ফেলা হল। ময়নাতদন্ত করা হল আরজি কর হাসপাতালে, যেখানে অধ্যক্ষ, সুপার প্রত্যেকে এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এখন কলকাতা পুলিশ সমস্ত রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার পরে সিবিআই তদন্তের দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী! তার মানেটা কি? তথ্যপ্রমাণ লোপাটের পর এখন সিবিআই? এই ঘটনায় রাজ্য সরকার নিজের মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করছে।”
শুক্রবার রাতে আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। লাগাতার চার দিন ধরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ পদত্যাগ করেছেন। হাসপাতালের সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠকে সরিয়ে বুলবুল মুখ্যোপাধ্যায়কে নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে।







