রাজ্য সরকারের তরফে একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ১৬ জন চিকিৎসকের বেতন বন্ধ হওয়ার ঘটনা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন না করার জন্যই তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি, বেতন বন্ধ করার পরে হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনও নির্দিষ্ট জবাব মেলেনি। হাসপাতালে অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ সাহা এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বেতন বন্ধের কারণ: অনিয়মিত হাজিরা
এটি জানা গেছে যে, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ডিউটি করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় তারা কলকাতায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ডিউটি পালন করেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, এই অনিয়মের কারণে জানুয়ারি মাসের ১৬ জন সিনিয়র চিকিৎসকের বেতন বন্ধ করা হয়েছে।


আরজি কর কাণ্ডে প্রতিবাদ: চিকিৎসকদের পদক্ষেপ
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে একযোগে আন্দোলনে নামেন। তারা বিচারের দাবিতে ধরনা ও অনশনে বসেন। এমনকি, অনেক চিকিৎসক শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা এসে আন্দোলনে যোগ দেন। প্রতিবাদী চিকিৎসকদের অভিযোগ, তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে কারণ তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি: প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিযোগ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা দুই দিনের ডিউটির পরে কলকাতায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। এটি অনিয়ম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে।
বিধায়ক শংকর ঘোষের মন্তব্য: প্রতিবাদীদের হেনস্থা করা হচ্ছে
শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেছেন, “এটা সত্যি যে কিছু চিকিৎসক শিলিগুড়িতে থাকেন না, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নামে প্রতিবাদী চিকিৎসকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রতিহিংসার মুখে পড়তে হবে, এমনটাই মনে করছেন তিনি।”


রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের চিকিৎসকদের প্রতিবাদ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই নতুন ঘটনা আরো একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।







