নজরবন্দি ব্যুরো: ২১ দিনে ২ কোটি টাকার চিকিৎসা। ভোটের আগেই কার্যত সরকারকে দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক প্রকল্পের সাফল্যের সাথে চলছে স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ড। মানুষের সাহায্যের স্বার্থে কদিন আগেই বেসরকারি হাসপাতাল গুলির সাথে বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসনও। স্বাস্থ্য ভবনের দাবি দুয়ারে সরকার অভিযানে কার্ড পেয়ে ইতিমধ্যে ১২৯৭ জন মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুবিধা পেয়েছেন ।
আরও পড়ুনঃ অধিকারী VS ব্যানার্জি: ফোনে আড়ি পাতছে ‘ভাইপো’র পুলিশ, বিস্ফোরক শুভেন্দু


এবং তাদের চিকিৎসা মূল্য হিসেবে ব্যায় হয়েছে ২ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। ভোটের আগে মানুষের একেবারে কাছে পৌঁছতে মমতা সরকার একেবারে সঠিক খেলেছেন বলে মনে করছে সকল দলই। মানুষের সাহায্যে এভাবে দরজায় দরজায় প্রশাসন পৌঁছে যাওয়ায় মানুষের সুবিধা হয়েছে অনেকাংশে। স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছে দুয়ারে সরকার অভিযানে কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ৬৪ লক্ষ্য মানুষ।
তাদের মধ্যে এখন নির্বাচিত হয়েছেন ৫২ লক্ষ্য মানুষ। ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত বিলি হয়েছে ১৫ লক্ষ কার্ড। তবে জানুয়ারির মধ্যে ৩০-৩৫ লক্ষ কার্ড বিলি করতে পারবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বিরোধীরা যাই বলুক, সাফল্যের খতিয়ান দেখাচ্ছে সরকার। জানা যাচ্ছে কার্ড পাওয়া মানুষদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল গুলি সরকার বা বিমা সংস্থার কাছে প্রতিদিন ৫০ লক্ষ করে চেয়ে পাঠাচ্ছে।
তার মানে প্রতিদিন ওই পরিমাণ টাকার চিকিৎসা পাচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। নতুন কার্ড প্রাপকদের মধ্যে প্রায় ২০০-২৫০ মানুষ চিকিৎসা করেছেন স্বাস্থ্য সাথীর আওতায়। অন্তত সমীক্ষা, খতিয়ান জানাচ্ছে তেমনটাই। রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন পুরনো কার্ড প্রাপকদের চিকিৎসা আগের মতোই চলছে, নতুন রূপে যাঁরা কার্ড পেয়েছেন তাঁরাও আসছেন নিয়মিত চিকিৎসা করাতে। এমনিতেই রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা হয়ে থাকে, তবু স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডের ফলে সরকারি হাসপাতাল গুলিও সেই পরিমাণ অর্থ বীমা সংস্থা থেকে গ্রহণ করে নিজেদের তহবিল গঠন করছে।


\ আর মানুষের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা ও বাড়ছে। যদিও বেসরকারি হাসপাতালগুলি খরচ মূল্য বাড়ানোর জন্য আর্জি জানিয়েছেন। তাতে তাদের সাথে বৈঠকেও বসে রাজ্য প্রশাসন। এদিকে স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধিতায় নেমেছে বিজেপি। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানান “সরকারি পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে দুয়ারে সরকার ভাঁওতা ছাড়া আর কিছু নয়, ” তাঁর মতে যদি ২৫০ জন চিকিৎসার সুবিধা নিচ্ছেন তাহলে ১৫ লক্ষ কার্ড প্রাপকদের বাকিরা কই?
২১ দিনে ২ কোটি টাকার চিকিৎসা। দিনে কি মাত্র এই কজন ই অসুস্থ হচ্ছেন? ১০ কোটি রাজ্য সরকারের প্রতিদিন যেখানে আড়াই লক্ষ মানুষের সুবিধা পাওয়ার কথা সেখানে আড়াই শ জন কেনো?? যদিও বিজেপি প্রশ্ন তুললেও মানুষের প্রতিক্রিয়া বলছে সরকার পৌঁছচ্ছে দুয়ারে। সাহায্য পাচ্ছে নিচু স্তরের মানুষেরা। সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছে অনেকেই।







