স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC Teacher Recruitment Result) সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল (SSC Result 2025) প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগের প্যানেলের অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা বিস্তারিত আকারে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কমিশনের জমা দেওয়া তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, “টেন্টেড ক্যান্ডিডেটদের” তালিকা অস্পষ্ট এবং জনসমক্ষে আনা হয়নি। বিচারপতি স্পষ্ট করে জানতে চান, “দাগি অযোগ্যদের লিস্ট পাবলিক ডোমেনে দিচ্ছেন না কেন?” আদালতের মতে, বিষয়ভিত্তিক ও সংরক্ষণভিত্তিক স্পষ্ট তথ্য না থাকলে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।


আদালতে কমিশনের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পরীক্ষার চাপের কারণে তালিকা প্রকাশে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই পরীক্ষার্থীদের ওএমআর কপি ও মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করেছি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশ করার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”
SSC: অযোগ্যদের তালিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত, শিক্ষক নিয়োগের ফলপ্রকাশ নভেম্বরে

এই বক্তব্যে আদালত স্পষ্ট জানায়, “পরীক্ষা হয়ে গেলে পরে দেবেন, সেটা চলবে না। ফলাফল প্রকাশের আগে সমস্ত দাগি অযোগ্য প্রার্থীর বিস্তারিত তালিকা ওয়েবসাইটে দিতে হবে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর জনসাধারণের আস্থা বাড়বে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
এই মামলার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস। গত ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে। আদালতের নির্দেশে নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব পায় স্কুল সার্ভিস কমিশন।


শীর্ষ আদালত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী, ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আদালত বুধবার কমিশনের কাছে সরাসরি জানতে চায়, “এই পরীক্ষার ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে?”
কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেধাতালিকা (Merit List) প্রকাশিত হবে। এতে প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ও সংরক্ষণভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকবে। পাশাপাশি, আগের প্যানেলের অযোগ্যদের নামও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “কারা মেধাতালিকায় স্থান পাচ্ছেন, সেটি জনসমক্ষে থাকা জরুরি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।” আদালত আশা প্রকাশ করে, এই নির্দেশ অনুসারে যদি কাজ হয়, তবে সমগ্র প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতও সন্তুষ্ট থাকবে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সেই সময় পর্যন্ত কমিশনকে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফলাফল ও অযোগ্য তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে হাজার হাজার প্রার্থী এখন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকেই চেয়ে আছেন। কারণ এই ফল প্রকাশই নির্ধারণ করবে তাদের বহু প্রতীক্ষিত চাকরির ভবিষ্যৎ।







