আজ, রবিবার, রাজ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসির দ্বিতীয় দফা শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫ (SSC Second Phase Teacher Recruitment Exam 2025)। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সাড়ে ১২ হাজার পদে নিয়োগের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী বসছেন এই পরীক্ষায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দু’জনেই আগেই আশ্বাস দিয়েছেন যে পরীক্ষা হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শনিবার সাংবাদিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন তার সবটাই এসএসসি-কে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে পরীক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি সমস্ত পরীক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করছি, প্রশাসনের তরফে এবং এসএসসি-র পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তভাবে পরীক্ষা দিন।”


ব্রাত্য বসু আরও বলেন, “আমাদের দিক থেকে, দপ্তরের দিক থেকে তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্তর থেকে এবং এসএসসি-ও অভ্রান্তভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা রাখছি, পরীক্ষা শান্ত এবং নির্বিঘ্নে শেষ হবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে উঠে এসেছে রাজ্যের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও। তিনি বলেন, “বোঝাই যাচ্ছে বাইরের রাজ্যে চাকরির সুযোগ নেই। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে চাকরি না থাকায় অনেকেই এখানে চলে আসছেন। আমরা তাঁদের কখনও অপমান করব না। তাঁরা হিন্দি বলেন বলেই আমরা তাঁদের তাড়া করব—এটা আমরা করব না।”
তিনি আরও জানান, “আমরা ভারতের সংবিধানকে সম্মান জানিয়ে সব ভাষাকে মান্যতা দিচ্ছি। বাইরের রাজ্য থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হবে।”


এই পরীক্ষাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, পর্যাপ্ত পরিদর্শক, নজরদারি ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
SSC Second Phase Teacher Recruitment Exam 2025-এর গুরুত্ব কেন এত বেশি?
এই পরীক্ষা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে একদিকে যেমন স্কুলে শিক্ষক-শূন্যতা কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও পাবে মানসম্পন্ন শিক্ষা। রাজ্য সরকারও জানিয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা হবে।
পরীক্ষার্থীদের প্রতি বার্তা:
শিক্ষামন্ত্রী ও এসএসসি দু’জনেই অনুরোধ করেছেন, পরীক্ষার্থীরা যেন কোনও রকম আতঙ্কে না থেকে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার দিনে পরিচয়পত্র ও প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজকের এসএসসি দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা তাই শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।







