দাগিদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে ফের একবার নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ— দাগিদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে (SSC)। আদালত প্রশ্ন তোলে, “তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি কেন?”
শীর্ষ আদালত জানায়, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে কারা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেই তথ্য জানতে। তাই দ্রুত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে।


এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, “আমরা তালিকা প্রকাশে প্রস্তুত। তবে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের কারণে এখনও প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।” আদালত স্পষ্ট জানায়, আর দেরি নয় — যত দ্রুত সম্ভব তালিকা জনসমক্ষে আনতে হবে।
আগের শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্ট এসএসসিকে এই নির্দেশ দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী, কমিশন আদালতের সামনে দাগিদের নামের তালিকা জমা দিয়েছিল। কিন্তু এবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ্যে আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষও তা দেখতে পারেন।
রাজ্য সরকারও এই নির্দেশে আপত্তি তোলেনি। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, যাঁরা দাগি হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে, এবং পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।


এদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরা পরীক্ষার্থীদের OMR কপি দিয়েছি, মডেল আন্সার শিট প্রকাশ করেছি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলাফল প্রকাশের আশা করছি।” আদালত এ কথা শুনে মন্তব্য করে, “সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে আদালত খুশি হবে।”
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসএসসির নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৬১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় বসেন ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৯২ জন। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন ছিল ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন, পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৯৭ জন। এমনকি এই দুই পরীক্ষায় ভিনরাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। দাগিদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ আসার পর এখন চোখ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।







