SSC: দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে CBI, রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দাগি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, রাজ্যের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ জানায়, কোনওভাবেই দাগি অযোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, একই ধরনের মামলা আর গ্রহণ করা হবে না।

বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এদিন সরাসরি সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা সিবিআইয়ের। তার কী হল?” শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে তদন্তের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে CBI।

রাজ্যের ভূমিকাও কাঠগড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, দাগিদের করা মামলার শুনানিতে কেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল উপস্থিত হচ্ছেন? বেঞ্চের কটাক্ষ, “বারবার বলেছি দাগিরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না। তবুও এত মামলা কেন?”

SSC: দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে CBI, রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

SSC: দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে CBI, রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
SSC: দাগিদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে CBI, রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালতের ক্ষোভের কেন্দ্রে আরও একটি বিষয়— বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের জন্য বহু যোগ্য প্রার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিচারপতি কুমার মন্তব্য করেন, “এই অযোগ্যদের জন্য অনেকের জীবন নষ্ট হয়েছে।”

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এসএসসি ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে ১,৮০৬ জন দাগি প্রার্থীর তালিকা। যাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ডও বাতিল করেছে কমিশন। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, এক জন দাগিও যাতে নতুন নিয়োগে অংশ নিতে না পারে।

তবে এখানেই শেষ নয়। দাগি প্রার্থীরা নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্টও তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চ জানায়, এসএসসির তালিকায় হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার আদালতের নেই।

এসএসসি মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট আরও প্রশ্ন তোলে, আগে যাঁরা দাগিদের অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করেছিলেন, পরে আবার তা বাতিল করলেন— তাহলে এর দায় নেবেন না কেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা?

এক কথায়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখন চাপে সিবিআই এবং রাজ্য সরকার দু’পক্ষই। একদিকে শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে হাই কোর্টের সাফ মন্তব্য— দাগিদের ভবিষ্যত পরীক্ষায় বসার সুযোগ একেবারেই নেই।

এই নির্দেশে স্পষ্ট, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কালিমা মুছে ফেলার পথে আর কোনও রেয়াত নেই। আদালতের বক্তব্যে নতুন করে আশার আলো দেখছেন প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন