চাকরিহারা শিক্ষকদের আশ্বাস দিলেন মমতা, শিক্ষক দিবসের আগে বড় ঘোষণা

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে শিক্ষারত্ন সম্মান বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য আইনি পথে বিকল্প ব্যবস্থা হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য রাজ্যের ৭৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দেওয়া হল শিক্ষারত্ন সম্মান। একইসঙ্গে সেরা ছাত্রছাত্রীদেরও রাজ্য সরকারের তরফে সংবর্ধিত করা হয়। এই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য।

মমতার স্পষ্ট বার্তা, “চাকরিহারা শিক্ষকদের অন্য ব্যবস্থা করা হবে। আইনি পথে সমাধান খুঁজে বের করব।” তাঁর এই আশ্বাসে হাজারো বেকার শিক্ষক-শিক্ষিকা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর হাত থেকে শিক্ষারত্ন সম্মান গ্রহণ করেন মোট ৭৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে রয়েছেন ৩৯ জন স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২১ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ১৩ জন ভোকেশনাল ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক। সম্মাননাস্বরূপ প্রত্যেকে পেয়েছেন মানপত্র, শাল, স্মারক, ঘড়ি, বই এবং ২৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, আইসিএসই, আইএসসি এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাত্রছাত্রীদেরও সংবর্ধিত করা হয়। মোট ৩৮৭ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে মানপত্র, ট্যাব, ল্যাপটপ, জেমস অফ বেঙ্গল বই, মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা ডায়েরি এবং মোট ১২টি বই।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রীর মতো প্রকল্প চালুর ফলে আজ বাংলায় স্কুলছুট প্রায় শূন্য। আগে ছোট মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হত, কিন্তু এখন শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে।”

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যও। সতীদাহ প্রথা রদ থেকে শুরু করে সামাজিক সংস্কারের নানা দৃষ্টান্ত টেনে এনে তিনি বলেন, “বাংলাই পথ দেখিয়েছে গোটা দেশকে। আমাদের এই ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া চলবে না।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মমতা বার্তা দেন, সব ভাষা শেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “অস্মিতা ভুলে যেও না, নিজের অস্তিত্বকে ধরে রাখো।”

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য মমতার এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে আলোচিত বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং আইনি লড়াই চলছেই। তাই শিক্ষক দিবসের আগে মমতার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে এক তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত