অযোগ্যের সংখ্যা ১০১৬৯! শুধু টাকা ফেরত নয়, এদের হেফাজতেও নিতে পারবে সিবিআই?

অযোগ্য প্রার্থীদের বেতন ফেরত দিতে হবে, উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিটগুলি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং সিবিআই-কে তদন্তে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে ওই প্রার্থীদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে সিবিআই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পোষিত স্কুলগুলির মোট ২৫৫৭২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের চিহ্নিত করা ৬২৭৬ জন দাগি শিক্ষকের তালিকায় এবার যোগ হয়েছে আরও ৩৮৯৭ টি নাম। সব মিলিয়ে অঘোষিত ভাবে অযোগ্য শিক্ষক-কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১৬৯ জন। অর্থাৎ মোট চাকরিহারাদের প্রায় ৪০ শতাংশই অযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে।

তালিকা প্রকাশ না হলে কারা বেতন পাবেন, কারা স্কুলে যাবেন তা নির্ধারণ হবে কী ভাবে? প্রশ্নের জবাবে ব্রাত্য বসু বলেন, “আপনারা বলছেন আমরা যোগ্য-অযোগ্য নির্ধারণ করতে পারিনি। কিন্তু আপনারা যদি ১৭ তারিখের কেসটি দেখেন, যেখানে আমরা ক্ল্যারিফিকেশন চাই, সেখানে খুব পরিষ্কার করে ১৭২০৬ জন— তাঁরা যোগ্য। এটি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে।”

অযোগ্যের সংখ্যা ১০১৬৯! শুধু টাকা ফেরত নয়, এদের হেফাজতেও নিতে পারবে সিবিআই?

অযোগ্যের সংখ্যা ১০১৬৯! শুধু টাকা ফেরত নয়, এদের হেফাজতেও নিতে পারবে সিবিআই?
অযোগ্যের সংখ্যা ১০১৬৯! শুধু টাকা ফেরত নয়, এদের হেফাজতেও নিতে পারবে সিবিআই?

কিন্তু ব্রাত্য বসু এই মন্তব্য করার পরেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান যা বললেন তাতে মাথায় পাহাড় ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের। এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “আমাদের আধিকারিকেরা ১৭২০৬ জনের মধ্যে কারা অযোগ্য সেই তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রস্তুত হলে সেটি স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” পরে জানা যায় সেই তালিকা প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। যেখানে অযোগ্য নন এমন রয়েছেন ১৫৪০৩ জন শিক্ষক-কর্মী।

এদিকে আজ ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলার শুনানি বুধবার হতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টে। এই মামলার শুনানি সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে হয়, যেখানে ছিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রসিদি।

আদালত প্রশ্ন তোলে, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তা এখনও কেন কার্যকর করা হয়নি? বিশেষ করে, যাঁরা অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের ওএমআর শিট এখনও এসএসসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি কেন?

উল্লেখ্য, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টও গত ৩ এপ্রিল সেই নির্দেশ বহাল রাখে। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, অযোগ্য প্রার্থীদের বেতন ফেরত দিতে হবে, উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিটগুলি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং সিবিআই-কে তদন্তে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে ওই প্রার্থীদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে সিবিআই।

এই নির্দেশগুলি দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার শুনানিতে এসএসসির তরফে আদালতে জানানো হয়, কয়েক দিন সময় দিলে তারা নির্দেশ কার্যকর করবে। কিন্তু বিচারপতিরা স্পষ্ট করেন, এক দিনের বেশি সময় দেওয়া হবে না। সেই এক দিনের মধ্যেই সমস্ত বিষয়ে হাই কোর্টকে জানাতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ফের শুনানি হবে ওই আদালত অবমাননার মামলার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর