নজরবন্দি ব্যুরোঃ এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডের শিকড় অনেক গভীরে এমনটাই মত ইডির। ইতিমধ্যে এসএসসি কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গত শুক্রবার সকালে পার্থর নাকতলার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন ইডি। সেই দিনই সন্ধ্যাবেলা অর্পিতার টালিগঞ্জের আবাসন থেকে উদ্ধার হয় ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, ৭৩ লক্ষের গহনা সাথে বিপুল সম্পত্তির হদিশ।
আরও পড়ুনঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আর্জি খারিজ, ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের!
২৭ ঘন্টা টানা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। গ্রেফতারির পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন পার্থ বাবু। নিজাম প্যালেসের পরিবর্তে পার্থকে জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যায় ইডির দল। তারপরে আদালতে প্রস্তুত করা হয় তাঁকে। রাতে এসএসকেএম এবং পরে আদালতের নির্দেশে ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূলের মহাসচিবকে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে ফিট সার্টিফিকেট দেন। তারপরেই সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে ফের পার্থকে আদালতের সামনে হাজির করায় ইডি।

ইডির বিশেষ আদালতে সোমবার শুনানি চলছে। সেই শুনানিতেই এই ১২০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলেছে ইডি। ইডির দাবি স্কুল সার্ভিসে বেলাইনে নিয়োগ পাইয়ে অন্তত ১২০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। যার মধ্যে সবেমাত্র ২২ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। সেই কারনেই পার্থ এবং অর্পিতাকে জেরা করা প্রয়োজন, কারণ এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছেন আরও প্রভাবশালীরা।

অর্পিতার বাড়ি থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সঙ্গে ৭৯ লক্ষ টাকার গয়না এবং ১৮টি মোবাইল। ইডি আধিকারিকরা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে এসএসসি দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে। সেইরকম একাধিক নথি পাওয়া গিয়েছে অর্পিতা এবং পার্থর বাড়ি থেকে। এসএসসি ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে গ্রুপ ডি নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নথি।
১২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, পার্থ ছাড়াও অনেক প্রভাবশালী জড়িয়ে!

এদিন ইডির বিশেষ আদালত পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে আর একটি মামলায়, কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সিবিআইএর পাশাপাশি টেট মামলার দায়িত্বভার ইডির হাতে দেওয়ার আবেদন জানান।



