নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার হওয়া পার্থকে সোমবার বিশেষ ইডি আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির করানো হয়। আজ সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছিল ভুবনেশ্বর এইমসে। তার রিপোর্ট এদিনই দেওয়া হয়েছে। পার্থর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে মেডিক্যাল অফিসার, পার্থর আইনজীবী এবং ইডির তদন্তকারী অফিসারকদের। এরপরেই জোর ধাক্কা। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ১০ দিনের জন্যে ইডি হেফাজতে পাঠাল আদালত।
আরও পড়ুনঃ ৫ ফুট ৪” উচ্চতা, ১১১ কেজি ওজন, কি আছে পার্থর মেডিক্যাল রিপোর্টে?
এদিন আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, গত শুক্রবার রাতে পার্থ ঘনিষ্ট অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা নগদ, বিদেশি মুদ্রা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে। মন্ত্রীর বাড়ি থেকেও অর্পিতার নামে বিভিন্ন সংস্থার নথি ও সম্পত্তির দলিল উদ্ধার হয়েছে। বেআইনি নিয়োগের এই দুর্নীতি-চক্রে জড়িয়ে রয়েছেন পার্থ বাবু সহ আরও অনেক প্রভাবশালী। বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করতে পার্থকে ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় ইডি।

পার্থ বাবুর আইনজীবী দেবাশিস রায় বলেন, ‘‘২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পার্থের বাড়িতে ছিল ইডি। তার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডির হেফাজত থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হিসাব করলে দেখা যাবে, ইতিমধ্যেই তিন দিন ইডির হেফাজতে রয়েছেন পার্থ।’’ তবে সেই দাবি খন্ডন করেন ইডির আইনজীবী। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এম রাজু বলেন, ‘‘হাসপাতালে ভর্তি থাকলে তাকে পুলিশি বা বিচারবিভাগীয় হেফাজত বলা চলে না। আমরা ইতিমধ্যে দু’দিন হারিয়েছি। তাই পার্থকে আরও ১৪ দিনের হেফাজতে চাইছি।

যদিও এদিন আদালতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন করা হয়। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি। রবে ইডির আবেদন মতো ১৪ দিন না দিয়ে ১০ দিনের কাস্টিডি দেওয়া হয়েছে পার্থকে। আগামী ৩ অগস্ট পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ট অর্পিতাকে। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে দু’জনেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আর্জি খারিজ, ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের!

উল্লেখ্য আজ ভুবনেশ্বর এইমসে শারীরিক পরীক্ষা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। এইমসের চিকিৎসকরা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পরীক্ষা করে জানতে পারেন পার্থ বাবুর হাইট ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি অর্থাৎ ১৬৭ সেন্টিমিটার, বয়স ৭০। উচ্চতার তুলনায় তাঁর ওজন অনেক বেশি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওজন ১১১ কেজি। অক্সিজেন স্যাচুরেশন ১০০ শতাংশ। মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ৬৭। ফুসফুস কাজ করছে স্বাভাবিকভাবে। বিকে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার সময় কোন অস্বাভাবিক শব্দ নেই। পেটের মধ্যে শব্দও স্বাভাবিক। শরীরের সমস্ত অঙ্গ কাজ করছে স্বাভাবিক ভাবে। ১০০ শতাংশ কাজ করছে নার্ভাস সিস্টেমও।



