SSC: ২৬ হাজার চাকরি বাতল, যারা প্রকৃত যোগ্য ছিলেন তাদের বাঁচিয়ে দেবে সুপ্রিম কোর্ট?

চূড়ান্ত লড়াই সুপ্রিম কোর্টে শুরু ৪ অগস্ট থেকে, চাকরি ফেরাতে শেষ সুযোগ যোগ্য প্রার্থীদের হাতে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২৬ হাজার চাকরি বাতিল—এই এক শব্দেই কেঁপে উঠেছে গোটা রাজ্যের চাকরি প্রার্থী মহল। এখন একটাই প্রশ্ন—বাঁচবেন কি যোগ্যরা? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ। কারণ, ৪ অগস্ট থেকে ৮ অগস্ট পর্যন্ত এই মামলার পুনর্বিবেচনা শুনানি শুরু করছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে উঠছে এই মামলার ফাইনাল রিভিউ। সরকারি চাকরি হারিয়ে পথে নামা ২৬ হাজার প্রার্থীর জন্য এটাই শেষ সুযোগ।

প্রশ্নটা শুধু রায় বদলানোর নয়, প্রশ্নটা জীবনের রুট বদলানোর। বাঁচবেন কি যোগ্যরা?
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে থেকে যাঁরা যোগ্য ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও চাকরি হারানোর রায় গিয়েছে। শীর্ষ আদালতের আগের রায়ে বলা হয়েছিল, প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না, যোগ্য-অযোগ্যদের মধ্যে সঠিক বাছাই হয়নি। সেই রায়ের বিরুদ্ধে SSC ও রাজ্য সরকার রিভিউ চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই আবেদন এতদিন বিচারপতিদের চেম্বারে পড়ে ছিল। এবার শুনানি শুরু হচ্ছে—যেখানে ঠিক হবে, বাঁচবেন কি যোগ্যরা?

Shamim Ahamed Ads

আদালতের পর্যবেক্ষণ—আগের চাকরিতে ফিরতে পারবেন ইচ্ছুকরা
শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যাঁরা সরকারি চাকরি ছেড়ে এই পদে এসেছিলেন, তাঁরা চাইলে আগের চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাঁদের লিখিত আবেদন জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, চাকরি বাতিল হলেও যোগ্য প্রার্থীরা আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পেতে পারেন।

SSC: ২৬ হাজার চাকরি বাতল, যারা প্রকৃত যোগ্য ছিলেন তাদের বাঁচিয়ে দেবে সুপ্রিম কোর্ট?

SSC: ২৬ হাজার চাকরি বাতল, যারা প্রকৃত যোগ্য ছিলেন তাদের বাঁচিয়ে দেবে সুপ্রিম কোর্ট?
SSC: ২৬ হাজার চাকরি বাতল, যারা প্রকৃত যোগ্য ছিলেন তাদের বাঁচিয়ে দেবে সুপ্রিম কোর্ট?

দুর্নীতি মামলার ছায়া থেকেই জন্ম এই সংকটের
প্রায় এক দশক ধরে চলা SSC দুর্নীতি মামলা রাজ্যের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। তদন্তে উঠে এসেছে সুপারিশের তালিকা, ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ, এবং অযোগ্যদের চাকরি পাওয়া। সেই কেলেঙ্কারির জেরেই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল ঘোষণা করে ২৬ হাজার নিয়োগ। কিন্তু প্রশ্ন হল—যারা প্রকৃত যোগ্য ছিলেন, তারা কি এই অন্যায়ের শিকার হবেন? বাঁচবেন কি যোগ্যরা? এই প্রশ্নেই এখন কান পাতছে বাংলা।

আশা হারাননি প্রার্থীরা, প্রস্তুত তাঁরা ফের লড়তে
হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে। কেউ চাকরি ছেড়ে, কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় বছর ধরে ঘর ছেড়ে অপেক্ষা করছেন। এই শুনানিতে যদি আংশিক স্বস্তি আসে, তবে যোগ্যদের জন্য খুলে যেতে পারে চাকরি ফেরানোর দরজা। আর যদি পিটিশন খারিজ হয়, তবে তা হয়ে থাকবে SSC ইতিহাসের সবচেয়ে চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক অধ্যায়।

রাজনীতির ময়দানেও এই মামলার গতি গুরুত্বপূর্ণ
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যু রাজ্য সরকারের কাছে বড় মাথাব্যথা। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ‘চাকরি বিক্রির সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব। শিক্ষা মহল এই মামলাকে বলছে ‘শেষ আশার আলো’। অর্থাৎ শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও এই রিভিউ শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রমাণ করতে হবে—দুর্নীতির অংশ ছিলেন না
সুপ্রিম কোর্টের ইঙ্গিত স্পষ্ট—শুধু আবেদন করলেই হবে না, প্রমাণ করতে হবে নিয়োগে কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন না আবেদনকারী। অর্থাৎ, যাঁরা সত্যিই পরীক্ষা দিয়ে স্বচ্ছভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের হাতে সুযোগ রয়েছে আদালতের কাছ থেকে ন্যায্যতা পাওয়ার।

শেষ সুযোগ—চাকরি না পেলে ভেঙে পড়বে বহু স্বপ্ন
এই শুনানি শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপ নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক জীবনের লড়াই। রাজ্যের হাজার হাজার যুবক-যুবতীর স্বপ্ন জড়িয়ে আছে এই রায়ের সঙ্গে। পুনর্বিবেচনার মধ্যে যদি আদালত প্রার্থীদের মধ্যে প্রকৃত যোগ্যদের আলাদা করে, তাহলে ফের চাকরি ফিরে পেতে পারেন তাঁরা। আর যদি তা না হয়, তবে শিক্ষা নিয়েও জীবিকা হারানোর কঠিন দুঃসময় সামনে আসবে।

সপ্তাহজুড়ে নজর সুপ্রিম কোর্টে—বাঁচবেন কি যোগ্যরা?
সোমবার থেকে শুক্রবার, এই পাঁচ দিন বাংলার চোখ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ একটাই—বাঁচবেন কি যোগ্যরা? এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করে দেবে কে থাকবে শ্রেণিকক্ষে, আর কে পড়বে বেকারির তালিকায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত