নজরবন্দি ব্যুরোঃ মেধাতালিকাভুক্ত হয়েও দুর্নীতির কোপে চাকরি থেকে বঞ্চিত। গত ৩ দফায় দীর্ঘ ৪৫৬ দিন ধরে আন্দোলন জারি রেখেছেন শিক্ষক হওয়ার আশায় চাকরী প্রার্থীরা। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আশ্বাস মিললেও এখনও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই সোমবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন শুরুর দিনেই বিধানসভার সামনে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ। পুলিশ এসে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ টেট দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল হাইকোর্ট #TET


পুলিশের সঙ্গে চাকরীপ্রার্থীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বিল্ব ঘোষ নামে এক চাকরীপ্রার্থী। তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ।

চাকরীপ্রার্থীদের অভিযোগ, প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷ ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।



এই অভিযোগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
বিধানসভার সামনে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ, গুরুতর অসুস্থ এক

সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন। এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিন ৪৫৬ দিনের মাথায় পড়ল আন্দোলন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



