নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘ভাইদের কপালে দিলাম ফোঁটা আর কিছু না চাই / আমার ভাগের সুখ যেন পায় বঞ্চিত সকল ভাই। আজ ভাইফোঁটা।’ সকল ভাইবোনের আত্মীক সম্পর্কের বাঁধন এই দিনে আরো সুদৃঢ় হয়। সকল দিদি-বোনেরা তাদের দাদা ভাইদের শুভকামনা করে এই দিনে। যেন ভাই কোনো দু্:খ না পায়, কষ্ট না পায়, সারাজীবন সুখে থাকে। এটি ভাই-বোনের আত্মীক সম্পর্ক। আর এই আত্মীক সম্পর্ককে সামনে রেখে দিদির সামনে কাতর আর্জি রাখল চাকরিপ্রার্থীরা।
আরও পড়ুনঃ ক্রমাগত দলের ক্ষতি করছেন, তথাগতকে বিজেপি ত্যাগ করার নিদান দিলীপের।
আজ ভাইফোঁটার দিনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষাকরে চাকরি দেওয়ার আবেদন রাখল হবু শিক্ষকরা। ২০১৬ সালের এস.এল.এস.টি নবম- দশম এবং একাদশ- দ্বাদশ স্তরের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ কাতর আবেদন জানিয়েছেন যে, “মাননীয়া দিদি বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের দিকে একটুখানি মুখ তুলে তাকান। আমাদের দীর্ঘ যন্ত্রণাময় জীবনের অবসান ঘটানোর সুব্যবস্থা করুন। আমরা ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেকারত্বের যন্ত্রণায় ভুগছি।”
চাকরিপ্রার্থীদের কথায়, “২০১৬ সালে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের এস. এল. এস. টি পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকা ভুক্ত হয়েও আমরা বঞ্চিত হয়েছি।” অভিযোগ, স্কুল সার্ভিস কমিশন নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমাগত অস্বচ্ছতা, প্রকাশিত গেজেট লঙ্ঘন, মেধাতালিকায় সামনের দিকে Rank এ থাকা চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চিত রেখে পিছনের দিকে Rank এ থাকা অনেক চাকরি প্রার্থীদের চাকরি দিয়েছে।
নিয়োগে একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। যে কারনে মেধাতালিকা ভুক্ত হয়েও বঞ্চিত হয়েছেন বহু চাকরি প্রার্থী। স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বহুবিধ অস্বচ্ছতা, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীরা ২০১৯ সালে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে অরাজনৈতিক ভাবে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে ২৯ দিন ব্যাপী অনশন করেছিলেন। তখন উক্ত অনশন মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মেধাতালিকা ভুক্ত চাকরি প্রার্থীদের জন্য সুব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে আইনের কিছু পরিবর্তন করেও বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। যদিও সেই প্রতিশ্রুতি এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
আশ্বাস কার্যকর না হওয়ার জন্য ফের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ২০২১ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রায় ছয় মাস রিলে অনশন করেছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। যার ফল স্বরূপ ২০২১ সালে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বার্তা দিয়েছিলেন যে কমিশন মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের বিষয়টি নিয়ে পজিটিভ দিক থেকে ভাবছেন। বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য কমিশন চল্লিশ দিন সময় ও নিয়েছিল। কিন্তু উক্ত সময় অনেক দিন আগেই অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
প্রতিশ্রুতি রক্ষাকরে চাকরি দিন, ভাইফোঁটার দিনে দিদিকে কাতর আর্জি ‘বঞ্চিত’ ভাইদের!

তাই বাধ্য হয়ে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ ২০২১ সালে ৮ ই অক্টোবর কলকাতার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে তৃতীয় বারের জন্য অনির্দিষ্ট কালের ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, গত ৪ ই নভেম্বর থেকে আজ অর্থাৎ ৬ ই নভেম্বর ধর্ণা বন্ধ রাখা হয়েছে কিন্তু ৭ ই নভেম্বর থেকে আবার অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা চলতে থাকবে। যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো- অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন রেখেছেন দ্রুত নিয়োগ করার জন্যে।



