রাজ্যে SSC নিয়োগ নিয়ে আবার তীব্র বিতর্ক। ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীরা। বুধবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলার অনুমতি দেন। এর পরেই মামলা দায়েরের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আদালত সূত্রের খবর—আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন যে ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বহু যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীর নাম নেই। তাঁদের অভিযোগ—কাট-অফ ঠিক করা হয়নি স্বচ্ছভাবে, উপযুক্ত নথি থাকা সত্ত্বেও একাধিক প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা কমিশনের সামনে ধরনায় বসতে চান, এবং সেই জন্যই হাইকোর্টের অনুমতি চাইতে বাধ্য হয়েছেন।


সম্প্রতি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির SLST ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করেছে SSC। সেখানে দেখা গেছে, বহু প্রার্থী যাঁরা আগে যোগ্যতার ভিত্তিতে তালিকায় ছিলেন, তাঁরা এবার ডাক পাননি। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজারো চাকরিহারা। কলকাতা, শিলিগুড়ি, মালদহ থেকে হাবড়া—বিক্ষোভ চলছে রাজ্যজুড়ে।

চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন—
“অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বরের সিদ্ধান্ত অন্যায়। এতে নতুন প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার চাকরিহারারা অস্বাভাবিক সুবিধা পাচ্ছেন।”
এই ১০ নম্বর বাতিল ও নতুন ভেরিফিকেশন লিস্ট প্রকাশের দাবিতে স্কেল-আপ আন্দোলন শুরু হয়েছে। কয়েকজন প্রার্থী ইতিমধ্যেই পৃথক মামলা করেছেন হাইকোর্টে।


SSC ভবনের সামনে স্থায়ী ধরনার দাবি
এই সমস্ত অভিযোগের মাঝে এবার SSC ভবনের সামনে বসে ধরনায় অংশ নিতে চান প্রার্থীরা। কিন্তু ভবনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশিকার কারণে এর জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। সেই অনুমতির আবেদনই আজ হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন—চাকরিপ্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। আদালত অনুমতি দিলে খুব শীঘ্রই স্কেলে বড় আন্দোলন দেখা যেতে পারে কমিশন ভবনের সামনে।
SSC বিতর্ক চললেও একইদিনে রাজ্যে শুরু হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ১৩,৪২১টি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া। শিক্ষা দপ্তরের আশা—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক–শিক্ষিকার স্বচ্ছ নিয়োগ সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক্স–এ লিখেছেন,
“পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ আজ অনলাইন পোর্টাল খুলছে, যেখানে TET উত্তীর্ণ যোগ্য প্রার্থীরা সরকারি অনুমোদিত স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও পথনির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরও মজবুত হবে।
দুই বিপরীত বাস্তব—একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে নিয়োগ
বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে SSC নিয়োগ আজ এক গভীর সংকটের মুখে। হাজারো প্রার্থী ন্যায়বিচারের আশায় আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন, আবার অন্যদিকে শিক্ষা দপ্তর নতুন করে নিয়োগের খাতা খুলছে।
এখন নজর একটাই—
হাইকোর্ট কি SSC ভবনের সামনে ধরনার অনুমতি দেবে? নাকি অন্য কোনো পথে সমাধান খুঁজবে কমিশন ও সরকার?








