নজরবন্দি ব্যুরো: ৮৪ ঘন্টা অনশন ও আন্দোলন চলার পরেই হঠাৎ পুলিশের ধরপাকড় শুরু। মধ্যরাতে কার্যত রণক্ষেত্র আকার নিল করুণাময়ী এলাকা। কাউকে চ্যাংদোলা করে, কাউকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল পুলিশ। আবার ভোর রাতে অসুস্থদের ছেড়ে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারেও একই অবস্থা করুণাময়ীতে।
আরও পড়ুন: গরুর মাংস রান্না নিয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন, বিতর্ক শুরু বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়
সেই ঘটনায় সরব হলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সকাল থেকেই নিজের ফেসবুক পোস্টে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। এরপরেই জনসাধারণের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে শ্রীলেখা বলেন, গতকালের ঘটনার পর কেন সাধারণ মানুষ এখনও চুপ হয়ে রয়েছে? কেন কেউ কিছু বলছে না? তাঁর কথায়, মানুষ আসলে ভিখিরি হয়ে গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রীর লোভে তারা আজ প্রতিবাদ করতেও ভুলে গিয়েছে।

মেরুদন্ডটাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মুষ্টিমেয় যারা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের ভয় দেখিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অন্য কেউ আর গলা তোলার সাহস না পান। এরপরেই অভিনেত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, আমার লজ্জা হয়, শুধু নিজেরটুকু ভাবতে পারি না, আর সেটাই আমার খামতি। একজন মহিলা অভিনেত্রী বলেছিলেন না আমার খামতির কথা, হ্যাঁ রয়েছে, আমার খামতি আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কার্নিভ্যালে গিয়ে চকোলেট খেতে পারি না। গতকালের ঘটনায় শুধুমাত্র শ্রীলেখা নয়, সরব হয়েছে টলিউডের একাধিক কলাকুশলী।
মানুষ আসলে ভিখিরি হয়ে গেছে, তাই চুপ করে রয়েছে, করুণাময়ীর ঘটনায় সরব শ্রীলেখা
অভিনেতা ঋদ্ধি সেন ফেসবুকে লেখেন, ধিক্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশকে এক শান্তিপূর্ণ, যোগ্য আন্দোলনের গায়ে এমন বীভৎস আঘাত করার জন্য। এই জঘন্য কাজের মাশুল গুনতে হবে রাষ্ট্রকে। একইসঙ্গে সরব হয়েছেন অপর্ণা সেন। তিনি ট্যুইট করে বলেন, তৃণমূল সরকার অনশনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। অহিংস আন্দোলনে ১৪৪ ধারা জারি হল কেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অগণতান্ত্রিক এবং অনৈতিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।



