বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের মুখে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শেষ হতে চলেছে, আর সেই সময়েই জোর গুঞ্জন—নতুন সরকারের আমলে তিনি কি দেশের রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন?
প্রায় দেড় বছরের অস্থিরতার পর বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে। আগামী মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার শপথ নিতে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউনূসের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জল্পনা।


একাধিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগাতে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একজন মনোযোগী প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত রাষ্ট্রপতির যুগলবন্দি নতুন সরকারের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে একাধিক মন্তব্যও সামনে এসেছে। বিশিষ্ট কলামিস্ট ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক মাধ্যমে মত দিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের নেতৃত্বের সমন্বয় কার্যকর হতে পারে।
তবে বিএনপি এখনও এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। বরং জল্পনাই বজায় রেখেছে। তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর দেশের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তাঁর কথায়, “এখনও নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং দেশের সব প্রতিভাকে কাজে লাগাতে চান।” তিনি আরও জানান, সময়মতো দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন তারেক, আর সেই প্রক্রিয়ায় ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হলে ইউনূস তাঁর পুরোনো কাজেই ফিরে যেতে চান। রাজনীতি বা কোনও সাংবিধানিক পদে তাঁর আগ্রহ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তাঁর সচিব। ‘থ্রি জ়িরো’—অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ভাবনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। পাশাপাশি নতুন সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলা এবং তরুণদের সঙ্গে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইউনূস পুরোপুরি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন না। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন কুমারের মতে, নতুন বিএনপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলাগুলি আর এগিয়ে নেবে না। বরং কোনও উপদেষ্টা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে ভূমিকা দেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ইউনূস নিজে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







