ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়ে কী বললেন সৌরভ

ওড়িশা, হরিয়ানা, অসমে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থায় ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীরব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঘিরে তীব্র আলোচনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সম্প্রতি একাধিক ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অবমাননাকর আচরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। ওড়িশা, হরিয়ানা, অসম, মহারাষ্ট্র, এমনকি রাজধানী দিল্লিতেও বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দেওয়া, ঘর থেকে বের করে দেওয়া, এমনকি বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠে এসেছে। এই অবস্থায় প্রতিবাদের মঞ্চে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা—মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বহু মানুষ কাজের জন্য বাইরে যান। সেখানে তাঁদের যে ধরনের জাতিগত হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি বাঙালি জাতির আত্মসম্মানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এটা বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত।”

Shamim Ahamed Ads

তিনি আরও জানান, ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে একটি নতুন ভাষা আন্দোলন, যা শুধুমাত্র সংস্কৃতির রক্ষা নয়, বরং জাতিগত সম্মানের প্রশ্নে এক বৃহৎ সামাজিক প্রতিবাদের রূপ নেবে। মমতার মতে, দেশের বহুত্ববাদ এবং সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য এই ঘটনাগুলিতে বিপন্ন।

আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক বার্তা

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিবাদকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল বললেও, সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধনের আয়োজন শুরু করে দিয়েছেন। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক

এই ইস্যুতে সম্প্রতি প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “আমি বাংলায় বড় হয়েছি। আমার অভিজ্ঞতা ভালো। বাইরে কোথায় কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমার কিছু জানা নেই।”

সৌরভের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে কেউ কেউ দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে করলেও, অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ বলেই দেখছেন। তবে জনপ্রিয়তার জোরে যদি সৌরভ হেনস্থার বিরুদ্ধে সরব হতেন, তবে তার প্রভাব আরও বড় হতো বলে অনেকের অভিমত।

ভাষা আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রভাব

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নতুন ভাষা আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেছেন, তা শুধু ভাষা নয়, বৃহত্তর সমাজবোধের রক্ষার বার্তা দিচ্ছে। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অবমাননার বিরুদ্ধে লড়াই যে এখনও প্রাসঙ্গিক, তা আবার প্রমাণ করে দিল এই আন্দোলন।

তবে প্রশ্ন উঠছে—এই আন্দোলনের বাস্তব ফলাফল কী হবে? আদৌ কি এই প্রতিবাদ বাংলার মানুষদের নিরাপত্তা ও সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবে? না কি এই আন্দোলন রাজনীতির কৌশলেই সীমাবদ্ধ থাকবে? একটি বিষয় স্পষ্ট—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন। আর সেটি হলো, “বাংলার সংস্কৃতি ও সম্মানের সঙ্গে কোনও আপস নয়।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত