বিষ্ণুপুর থেকে এবারের লোকসভা নির্বাচন জেতার পর থেকেই জল্পনা বাড়িয়ে চলেছেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢালাও প্রশংসা আর এবার জেলার এক তৃণমূল নেতাকে দেখেই পা ছুঁয়ে প্রণাম! রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সৌমিত্র খাঁ-এর ফুলবদল কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। যদিও এই ঘটনাকে সৌজন্যতা বলেই দাবি করেছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ।
আরও পড়ুন: এবার আতঙ্কবাদীদের লক্ষ্য কলকাতা, ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা, উদ্বিগ্ন প্রশাসন


ঘটনা সোমবারের। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের রতনপুরে সাংসদ উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন সৌমিত্র। ফেরার পথে রতনপুর বাজারে ওন্দার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা ভবতারণ চক্রবর্তীকে দেখতে পান সৌমিত্র। তৎক্ষণাৎ গাড়ি থেকে নেমে ভবতারণের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন তিনি। দু’জনেই সৌজন্যতার দোহাই দেখালেও দলবদলের জল্পনাও একেবারে উড়িয়ে দেননি বলে সূত্রের খবর।

পরপর দু’বার সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রিত্ব পাননি সৌমিত্র। এবার তিনি আশা করেছিলেন তা নিজের মুখেই জানান। যদিও সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর মন্ত্রী হলেও তাঁকে ‘গুরুত্ব’ দেয়নি বিজেপি। এর আগে তৃণমূলেই ছিলেন সৌমিত্র। যুব মোর্চার দায়িত্বও ছিল তার ওপর। এখন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নেই বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর। যদিও সুকান্ত দাবি করেন, সৌমিত্র তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধু।
বিষ্ণুপুরে এবার তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন স্ত্রী সুজাতা মণ্ডলের সঙ্গে কঠিন লড়াই ছিল বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন তিনিই। কিন্তু, জয় এসেছে মাত্র ৫ হাজার ৫৬৩ ভোটে। আর নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন সৌমিত্র। আগেই তিনি বলেন, তাঁর জেলাতেও অনেক বিজেপি নেতাই তলে তলে যোগাযোগ রেখেছে তৃণমূলের সঙ্গে। যেটা তিনি জানতে পারেন ভোটের মাত্র ৩-৪ দিন আগে।


গাড়ি থেকে নেমে তৃণমূল নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম, সৌমিত্রের ফুলবদল সময়ের অপেক্ষা!

তবে, সৌমিত্রর মতে, বিজেপিকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে এই ফলাফল হলে বিজেপির অস্তিত্ব সংকট হয়ে যেতে পারে জেলায় জেলায়। তিনি বলেছেন, তাঁর বিষ্ণুপুরের পাশ্ববর্তী সমস্ত জেলায় জয়জয়কার হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। তাঁর একার পক্ষে এই গড় রক্ষা করা আগামীদিনে আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে যদি না নেতৃত্ব সচেতন হয়।







