নজরবন্দি ব্যুরোঃ BJP-তে যোগ দিয়েই কেতুগ্রামে শুভেন্দুর সভা, আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শনিবার। আর তার ঠিক পরেই প্রথম বিজেপি নেতা হিসাবে মঙ্গলবার প্রথম জনসভা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের পূর্বস্থলীতে দলীয় জনসভায় হাজির হয়েছেন শুভেন্দু। সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, এই শুরু। এর পর জেলায় জেলায় সফর চলবে শুভেন্দুর। সঙ্গে থাকবেন দিলীপ।
আরও পড়ুনঃ ‘বহিরাগত’ ইস্য়ুতে তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ ধনকড়ের।
‘নবাগত’-কে বিজেপি-র আদবকায়দায় অভ্যস্ত করতে আপাতত শুভেন্দুর গাইডের কাজ করবেন দিলীপ। তবে নিজেকে ‘গাইড’ আখ্যা দিতে চাইছেন না দিলীপ। তাঁর কথায়, ‘‘গাইড করার কিছু নেই। শুভেন্দু পুরোদস্তুর রাজনীতির মানুষ। প্রথম দিকের কয়েকটা সমাবেশে আমি বা অন্য নেতারা সঙ্গে থাকলেও এর পরে শুভেন্দু একাই বিভিন্ন জেলায় সফর করবেন।’’ প্রথম থেকেই শুভেন্দুকে যে বিজেপি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটা যোগদান কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে।
মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় ফেরার সময় অমিত শাহ নিজের চপারে তুলে নিয়েছিলেন তাঁকে। যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দুকে দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন অমিত। যেটা বিজেপি-র ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন বলেই দলের একাংশের দাবি। রাজারহাটের একটি হোটেলে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সেই বৈঠকে বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি হাজির ছিলেন বাংলার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ও ভিনরাজ্যের নেতারাও।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকেই রাজ্যের সর্বত্র শুভেন্দুকে ‘ব্যবহার’ করতে বঙ্গ বিজেপি-কে নির্দেশ দিয়েছেন অমিত। দলের এক প্রথমসারির নেতার কথায়, ‘‘শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও প্রমাণিত। ফলে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তাঁকে সারা রাজ্যেই ব্যবহার করা হবে। দিলীপ’দার জনপ্রিয়তাও এখন প্রচুর। ফলে দিলীপ-শুভেন্দু জুটি নির্বাচনী ময়দানে নামলে তার ফল মিলতে বাধ্য।’’ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম জনসভা থেকে শুভেন্দু কী বার্তা দেন, তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।
BJP-তে যোগ দিয়েই কেতুগ্রামে শুভেন্দুর সভা, অনেক জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুলও পোড়ান হয়। পূর্ব বর্ধমানেও একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা সৌগত রায় শুভেন্দুর জনসভা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “শুভেন্দু বিজেপির অনেক মুখের একজন। ওকে বাড়তি গুরুত্ব নয়। শুভেন্দুর জনসভায় কত লোক হয়, সেদিকে নজর রাখব। কেন নন্দীগ্রাম ছেড়ে উনি প্রথম জনসভা পূর্ব বর্ধমানে, সে প্রশ্নের অবশ্য জবাব পেলাম না।“



