সর্বানন্দ নাকি হিমন্ত? আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদের সিদ্ধান্ত নিতে আজ দিল্লীতে তলব দুজনকেই।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সর্বানন্দ নাকি হিমন্ত? আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদের সিদ্ধান্ত নিতে আজ দিল্লীতে তলব দুজনকেই। ৩ রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়লেও অসমে নিজেদের ক্ষমতা দখলে রাখতে পেরেছে বিজেপি। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের ৬ দিন পার হয়ে গেলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্ব। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় ফিরে ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমনটাই দস্তুর। কিন্তু অসমের ক্ষেত্রে সেই রীতিতে বদল ঘটার সম্ভবনা প্রবল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এবং হেমন্ত বিশ্বশর্মা।

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতায় এসে তামিলনাড়ুতে দুই সপ্তাহের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা স্ট্যালিনের।

আজ তাঁদের দুজনকেই দিল্লি ডেকে পাঠাল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেখানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সামনে দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন এই দ্বিধা? কারন হেমন্ত বিশ্বশর্মার জনপ্রিয়তা। গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের NDA-কে একজোট করার পিছনে অন্যতম ব্যক্তিত্ব তিনি। তাঁকে সনোয়ালের থেকেও প্রভাবশালী বলে মনে করা হয় সেখানে। তাই বিশ্বশর্মাও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। প্রসঙ্গত অসমে বিধানসভার লড়াই ছিল ১২৬টি আসনের। লড়াইয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটকে অনেকটাই পিছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে যায় বিজেপি। কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ৫০ টি আসন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পায় ৭৫ টি আসন।

তারপরেই অসম বিজেপির উপর একাংশ চাপ সৃষ্টি করছে সর্বানন্দ সোনওয়ালকে সরিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে আনার বিষয়ে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে দিল্লির নেতাদের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। সেই সিদ্ধান্ত নিতেই আজ দিল্লীতে জরুরি তলব দুজনকে। অতীতে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেও ভাবমূর্তি এতটুকুও টোল খায়নি। বরং করোনার সময়ে অসমবাসী যে ভাবে তাঁকে পাশে পেয়েছে তাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতার জেরে গোটা উত্তর পূর্ব ভারতেই সাংগঠনি্রীরক ক্ষমতা বেড়েছে বিজেপির। ফলে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদির গুডবুকে রয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। হেমন্ত বিশ্বশর্মা ও সর্বানন্দ সনোয়ালের মধ্যেকার ঠান্ডা যুদ্ধের কথা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে অজানা নয়। ভোটের প্রাক্কালে বিশ্বশর্মাকে একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থাত্‍ সেখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী ছাড়াই ভোট যুদ্ধ হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দুজনকে সামনাসামনি বসিয়ে আলোচনা করছে বিজেপি।

সর্বানন্দ নাকি হিমন্ত? আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদের সিদ্ধান্ত নিতে আজ দিল্লীতে তলব দুজনকেই। একদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা এবং অন্যদিকে হেমন্ত বিশ্বশর্মা বিজেপির গোটা উত্তরপূর্ব ভারত একজোট করার অন্যতম কারিগর হয়ে ওঠা। ফলত তাঁদের দুজনই মুখ্যমন্ত্রীর আসনের দাবিদার! এখন দেখার চূড়ান্ত আলোচনায় কার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত শিকে ছেঁড়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর