রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকেই বাড়ি বাড়ি স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের ঘোষণা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে প্রায় ২ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহককে এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিল সংক্রান্ত ব্যবস্থায় আসতে পারে বড় পরিবর্তন।
শনিবার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প পর্যালোচনার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সরকারি অফিস, সরকারি ভবন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে স্মার্ট মিটার স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে বৃহৎ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
স্মার্ট মিটার চালুর মূল লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিলিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা রিয়েল-টাইমে বিদ্যুৎ খরচের তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অপচয় কমানো এবং রাজস্ব আদায় আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু স্মার্ট মিটার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম সূর্যঘর যোজনা’ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থার প্রসারে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।
মনোহর লাল খট্টর জানিয়েছেন, ২০২৯-৩০ সালের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বকেয়া দ্রুত মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিন বিদ্যুতের পাশাপাশি নগরোন্নয়ন ও পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের রাজ্য সরকার স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত উন্নয়নে নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক এবং শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির পরিচ্ছন্নতা পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। পর্যটন নির্ভর এই শহরগুলিতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিষেবার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
এছাড়া কলকাতা মেট্রোর একাধিক বকেয়া প্রকল্প দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য নতুন মেট্রো সংযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এ জন্য শীঘ্রই সমীক্ষা চালানো হবে।
পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মাল্টিলেভেল পার্কিং, আধুনিক পাবলিক টয়লেট এবং উন্নত নাগরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিশেষ মাস্টার প্ল্যান তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্মার্ট মিটার প্রকল্প থেকে মেট্রো সম্প্রসারণ, সৌরশক্তি ব্যবহার থেকে পর্যটন অবকাঠামো— একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র। আর জুলাই মাস থেকে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।



