লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচনের প্রচারকে নিয়ে সিপিআইএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ধমক খেলেন বামেদের বঙ্গ নেতৃত্ব। সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি সাফ বলে দিলেন, ভোটের প্রচারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘ভিক্ষা’ ঘুষ’ বলা উচিৎ হয়নি, এতে নিচু তলার কর্মীদের কাছে আরও ভুল বার্তা গিয়েছে। পাশাপাশি, তিনি আরও স্মরণ করান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাই তাঁর বেশি বিরোধিতা করাটা ‘কাল’ হয়েছে, বরং শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলে ফল আরও ভালো হতে পারত।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে সাড়া জাগিয়েও আশানুরূপ ফল হয়নি বামেদের। যে শূন্য তকমা এবার মুছে যাবে বলে ভেবেছিলেন অনেক নেতা সমর্থকেরা, তা বাস্তবে হয়নি। ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৮ আসনেই জামানত জব্দ হয়েছে। কেবল মুর্শিদাবাদে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও দমদমে সুজন চক্রবর্তী কোনও রকমে মান রক্ষা করেছেন। কেবল একটি বিধানসভা, রানিনগর জিতেছে বামেরা।



নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর কলকাতা আসেন সীতারাম ইয়েচুরি। তখন যদিও বলেন, “বাংলায় আমরা নতুনরকমের পার্টি পেয়েছি। ফল খারাপ হলেও এখানে প্রচার খুব ভাল হয়েছে।” সেই কথাই বদলে গেল কয়েক সপ্তাহে। কারণ, তরুণ যে প্রার্থীদের নিয়ে তিনি প্রশংসা করেছিলেন তাঁরা প্রত্যেকে হেরেছেন। কিন্তু, সীতারামের যেটা মূল বক্তব্য, রাজ্যে ভুল ‘পার্টি লাইন’ নিয়ে প্রচার করছেন মহম্মদ সেলিমরা।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘ভিক্ষা’ ‘ঘুষ’ বলা উচিৎ হয়নি, সীতারামের প্রশ্নের মুখে নীরব সেলিম



সীতারাম সেই কারণেই বুঝিয়ে গেলেন, শুধু অতিমাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করলেই হবে না। তাছাড়া সরকারের যে সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে সেগুলোকে ভিক্ষা, ভাতা ইত্যাদি বললে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তার চেয়ে অন্য কিছু ভাবতে হবে। তিনি একবারও তৃণমূলকে বিরোধিতা করতে বারণ করেননি, কিন্তু সেটা পার্টি লাইন মেনে এবং অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে। এই একই কথা বলেছিলেন সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও।








