ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে ইতিমধ্যেই আতঙ্কে মতুয়া সমাজের একাংশ। সেই উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বনগাঁর সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর-এর বক্তব্যে। তাঁর ইঙ্গিত, সংশোধিত ভোটার তালিকায় প্রায় এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ যেতে পারে।
সোমবার বনগাঁর গাড়াপোতায় Bharatiya Janata Party-র একটি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, সেখানে আমাদের এক লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়লে সেটুকু সহ্য করতে হবে। আমাদের সহ্য করা উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে।
শান্তনু ঠাকুরের ব্যাখ্যা, মতুয়া উদ্বাস্তুরা প্রাণ হাতে করেই এ দেশে এসেছিলেন। তাই নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িক সমস্যা হলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে বলেই তাঁর দাবি। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আইন করেছেন এবং মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
তবে এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছি বিজেপি মতুয়াদের ভাঁওতা দিচ্ছে। এখন যা ঘটছে, তাতে সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছিল—মতুয়া অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম তালিকায় নেই। বিশেষ করে গাইঘাটায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি।


SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে মতুয়া সমাজের মধ্যে প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে? রাজনৈতিক তরজার মাঝেই সেই উত্তর খুঁজছে এপার বাংলার বড় একটি অংশ।









