রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেমেছে গভীর উদ্বেগের ছায়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার শিক্ষককে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় চার হাজার শিক্ষক শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মহলের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে বহু স্কুলে পড়াশোনা প্রায় স্তব্ধ হয়ে যাবে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট বলছে, অনেক West Bengal স্কুলে ইতিমধ্যেই মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। সেই একজনকেই একসঙ্গে পড়ানো, উপস্থিতি, প্রশাসনিক কাজ—সব সামলাতে হচ্ছে। যাঁরা SIR দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের BLO duty-সহ মাঠপর্যায়ের কাজে লাগানো হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই স্কুলের পঠনপাঠন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, “SIR is a full-time job”। জেলা প্রশাসন এই নির্দেশ শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। অর্থাৎ SIR দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা স্কুলে ফিরতে পারবেন না। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে, তা নিয়ে আর সন্দেহ নেই।
অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল ফের স্বাভাবিক করতে সরকার ও কমিশনের দ্রুত সমাধান করা উচিত। কারণ দীর্ঘদিন পড়াশোনা বন্ধ থাকলে শিশুদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের চিন্তা আরও বাড়ছে। তাঁদের মতে, SIR-এর ফলে শিক্ষার্থী জীবনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার ধারাবাহিকতায়।
অনেক শিক্ষকই মনে করছেন, যেসব স্কুলে এখনই শিক্ষক সংকট, সেখানে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। জেলা শিক্ষা দপ্তর neighbouring school teacher deployment শুরু করলেও তা প্রায়ই অপর্যাপ্ত। কারণ মোট শিক্ষক সংখ্যা এমনিতেই কম। তার ওপর SIR দায়িত্বে যাওয়া শিক্ষকদের অভাব স্কুলে সরাসরি চাপ ফেলছে।
শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “রাজ্যের স্কুলে এমনিতেই শিক্ষক সংখ্যা কম। তার ওপর আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষককে SIR কাজে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাস সরকারি স্কুলগুলিতে পড়াশোনার অবস্থা কী হবে, ভাবলে উদ্বেগই বাড়ছে।”
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও education continuity সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষাখাতে বিকল্প ব্যবস্থা ও কর্মীসংস্থান না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক অন্দরমহলেও এই ইস্যুতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তাড়াহুড়ো করে SIR চালু করায় শিক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন সাংবিধানিক কর্তব্য, এবং SIR একটি অপরিহার্য সরকারী প্রক্রিয়া।
এখন প্রশ্ন, SIR চলাকালীন বাংলা স্কুলে পড়াশোনা কীভাবে স্বাভাবিক থাকবে? শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে? আগামী কয়েক সপ্তাহেই এর উত্তর পাওয়া যাবে।
রাজ্যের লাখো ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এখন এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। SIR-এর চাপ ও teacher crisis—এই দুইয়ের লড়াইয়ের মাঝেই আটকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গন।







