SIR-এ চলবে না ২০১০–এর পরের OBC সার্টিফিকেট, স্পষ্ট নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর কমিশনের সিদ্ধান্ত—২০১০ সালের আগে তালিকাভুক্ত ৬৬টি গোষ্ঠীর শংসাপত্রই কেবল বিশেষ নিবিড় সংশোধনে গ্রহণযোগ্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—২০১০ সালের পর ইস্যু হওয়া কোনও OBC সার্টিফিকেট SIR-এর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজ্যে যেসব জনগোষ্ঠী OBC তালিকাভুক্ত ছিল, শুধু তাঁদের শংসাপত্রই SIR-এর শুনানিতে গ্রহণযোগ্য হবে। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার যে ১১৩টি জনগোষ্ঠীকে OBC তালিকায় যুক্ত করেছিল, তাঁদের সার্টিফিকেট এই প্রক্রিয়ায় মান্যতা পাবে না।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে Kolkata High Court-এর পর্যবেক্ষণ। হাইকোর্ট আগেই জানিয়েছিল, ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সব OBC সার্টিফিকেট বাতিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই কমিশন জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) জানিয়ে দিয়েছে—এই সার্টিফিকেটগুলি SIR-এ ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠী OBC তালিকাভুক্ত ছিল। হাইকোর্ট সেই তালিকাকেই বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার পরে যে নতুন জনগোষ্ঠীগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, আদালত তা বাতিল করে দেয়।

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে মোট ১১টি নথিকে স্বীকৃতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার মধ্যে OBC সার্টিফিকেটও রয়েছে। এই নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই আদালতে মামলা হয়। মামলাকারীদের দাবি ছিল—২০১০ সালের পর দেওয়া সব OBC সার্টিফিকেট বাতিল হওয়ায় সেগুলি যেন SIR-এ ব্যবহার না করা হয়।

যদিও হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ওই রায়ের উপর Supreme Court of India আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। তবুও কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয় যাতে এই সার্টিফিকেট SIR-এ গ্রাহ্য না করা হয়। পরে বিষয়টি ফের হাইকোর্টে ওঠে এবং সেখান থেকেই কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়।

গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছিল, তৃণমূল আমলে যাঁদের OBC তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের শংসাপত্র SIR-এ গ্রহণযোগ্য হবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই এবার অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর