মা–বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছর! অমর্ত্যের বাড়িতেই পৌঁছল এসআইআর শুনানির নোটিস

প্রথমে অস্বীকার, পরে শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’তে গিয়ে নোটিস। মা–বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান দেখিয়ে অমর্ত্য সেনের বাড়িতে এসআইআর শুনানি ডাকল কমিশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুরুতে অস্বীকার, পরে সরাসরি বাড়িতে নোটিস—ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে বিতর্কে এ বার কেন্দ্রবিন্দুতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তৃণমূল সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দাবির পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছিল, অমর্ত্য সেনের বাড়িতে কোনও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়নি। কিন্তু বুধবার সকালে বাস্তব চিত্র বদলে গেল—শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’তে গিয়ে সরাসরি নোটিস দিয়ে এলেন বিএলও।

বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’তে পৌঁছয়। অমর্ত্য সেনের আত্মীয় শান্তভানু সেন জানান, আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, এই নোটিসের উদ্দেশ্য শুধুই হয়রানি। তৃণমূলের বক্তব্য, এতে প্রমাণিত হল—দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কোনও তথ্য না জেনে নয়, সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই অভিযোগ করেছিলেন।

নোটিসে যে কারণ দেখানো হয়েছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেখানে বলা হয়েছে, প্রবাসী ভারতীয় অমর্ত্য সেনের গণনাপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর নিজের ঘোষণায় বাবা–মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান মাত্র ১৫ বছর দেখানো হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের মতে ‘সাধারণত প্রত্যাশিত নয়’। এই কারণেই এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

নোটিস অনুযায়ী, আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্য সেনের বাড়িতেই শুনানি হবে। তার আগে জন্মসংক্রান্ত নথি সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। কমিশনের এই যুক্তি ঘিরেই প্রশ্ন তুলছেন অমর্ত্যের ঘনিষ্ঠরা—তাঁদের দাবি, বয়সের এই তথাকথিত ‘অসঙ্গতি’ নতুন কিছু নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নথিতে রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, প্রথমে নোটিস পাঠানোর কথা অস্বীকার করে পরে সরাসরি বাড়িতে গিয়ে নোটিস দেওয়াই প্রমাণ করে, কমিশন তথ্য গোপন করতে পারেনি। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিতর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য জুড়ে যখন একের পর এক বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে আসছে, তখন অমর্ত্য সেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের বাড়িতে নোটিস পৌঁছনো সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়াল। এখন নজর ১৬ জানুয়ারির শুনানির দিকে—সেই শুনানিতে কমিশনের যুক্তি কতটা টিকে থাকে, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন