ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী বা SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে ফের উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন। দ্বিতীয় দফায় ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বাংলায় SIR ইস্যুতে এবার একযোগে নিশানা করল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস।
বাম-কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই চলছে নির্বাচন কমিশন।
বিহারে যখন SIR প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তখন থেকেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রদেশ কংগ্রেস দাবি করেছিল—বাংলায় SIR ঘোষণার আগে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক কমিশন। কিন্তু কমিশন তাদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। ফলত, প্রদেশ কংগ্রেস ঘোষণা করেছে, বাংলার ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তারা পথে নামবে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে।


প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, “SIR বিজ্ঞপ্তি জারির আগে আমরা কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে। কিন্তু তারা তা করেনি। দেশের ১২টি রাজ্যের ৫১ কোটি ভোটারকে একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার সংকুচিত করার চেষ্টা হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একপ্রকার হুমকি।”
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের ৮০ হাজারেরও বেশি বুথে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের বুথ এজেন্ট নিয়োগ করেছে। তাঁর কথায়, “১০০ শতাংশ বুথে আমাদের প্রতিনিধি থাকবে। জেলা ও বিধানসভাভিত্তিক পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলবে এবং কলকাতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”


বামফ্রন্টের পক্ষ থেকেও তীব্র সমালোচনা এসেছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “SIR-এর নামে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। মানুষকে এই প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্ত করা হচ্ছে যাতে তারা ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে ভোগে। আমরা মানুষকে সব রকম সহায়তা করব। কোনওভাবেই ভোটাধিকার সংকুচিত হতে দেব না।”
এসইউসিআইও (SUCI) এই ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপির মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রের দায়িত্ব নাগরিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিপন্থী।”
এই প্রেক্ষাপটে সিপিএম নভেম্বর মাসে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’-র ডাক দিয়েছে, যেখানে SIR বিরোধী প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি, এসইউসি, সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ সমস্ত বাম দল কমিশনের দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, SIR ইস্যুতে কমিশনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ? বিরোধীদের অভিযোগ, এটি বিজেপির এক গোপন রাজনৈতিক কৌশল যাতে বিরোধী ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলা যায়।
তবে কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, SIR নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।







