এসআইআরের চাপে ফের অসুস্থ দুই বিএলও, ভর্তি হাসপাতালে

এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপে বারুইপুর ও কাটোয়ায় দুই বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য। বাড়ছে মানসিক চাপ, সামনে প্রশ্ন—নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ কতটা সুরক্ষিত?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নাম নিবন্ধন যাচাই ও এনুমারেশন ঘিরে SIR in Bengal এখন রাজনৈতিক থেকে প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দিনদিন বেড়ে চলা দায়িত্ব আর সময়সীমার চাপ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল দুই বিএলওর উপর। বারুইপুর ও কাটোয়া—দুই জায়গাতেই এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল কর্মীদের। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এই SIR in Bengal প্রক্রিয়ায় বিএলওদের কাজের চাপ কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?

বারুইপুর ব্লকের সূর্যপুরে ঘটে প্রথম ঘটনা। রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১০৯ নম্বর বুথের বিএলও তনুশ্রী হালদার নাইয়া শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত SIR in Bengal–এর কাজ করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎই তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত সুভাষগ্রামের সোনারপুর ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, প্রচণ্ড মানসিক চাপেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তনুশ্রীর স্বামী অভিযোগ করেছেন যে, SIR in Bengal-এর কাজ নিয়ে তাঁর স্ত্রী অতিরিক্ত মানসিক চাপে ছিলেন। কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এই ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে।

এসআইআরের চাপে ফের অসুস্থ দুই বিএলও, ভর্তি হাসপাতালে

এদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ১৪৭ নম্বর বুথের বিএলও শুকদেব দাসও একইভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সকালে এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে বাড়ি বেরোনোর সময় হঠাৎই তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরিবার জানায়, গত কয়েক দিন ধরে তিনি ঘুমোতে পারছিলেন না, কারণ SIR in Bengal-এর ডেডলাইন ও প্রশাসনিক চাপ তাঁকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। চিকিৎসকের প্রাথমিক মন্তব্য, তাঁর প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে।

যদিও মহকুমা শাসক দাবি করেছেন, প্রশাসনের তরফে বিএলওদের ওপর কোনও অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত কাজ চালানোর কথাই বলা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে বিএলওদের মতে, SIR in Bengal–এর কাজ এতটাই সময়সাপেক্ষ ও জটিল যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে অনেকের প্রশ্ন—SIR-এর কাজ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সুরক্ষাবিধি কি সেই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে?

এই দুই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, SIR in Bengal প্রক্রিয়ার চাপ এখন মাঠপর্যায়ের কর্মীদের স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সামনে আরও দিন বাড়লে পরিস্থিতি কী মোড় নেবে, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক—সবাই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত