SIR প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণের দাবি মমতা সরকারের

নির্বাচন কমিশনের কাছে মুখ্যসচিবের চিঠি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিচয়পত্র হিসেবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা। একসময় তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছিল বাংলায় এসআইআর চালু হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি ঘুরে গেছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড যেন বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গৃহীত হয়।

ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) বর্তমানে ভোটার তালিকার যথার্থতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বিহার মডেল’ অনুসরণ করছে। বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্যকে আগের বিশেষ সংশোধিত তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশেই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্রের খবর, অক্টোবর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু হতে পারে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যগুলিকে প্রস্তুতি শেষ করতে বলা হয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

বিহারের অভিজ্ঞতা থেকে কমিশন জানিয়েছে, ৭.৮৯ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশের নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় সরাসরি পাওয়া গেছে। প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের নাম পরিবারের সদস্যদের তথ্যের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে। তবে সারা দেশে কবে থেকে এসআইআর কার্যকর হবে, তা এখনও ঘোষণা করেনি কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের পরে বিহারের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সবাইকে জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থানের নথি জমা দিতে হবে। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরে জন্মগ্রহণকারীদেরও তাদের পিতামাতার নথি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এভাবে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৬৫-র বিধানগুলির সাথে প্রক্রিয়াটি সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে।

বুধবারের বৈঠকে কমিশন রাজ্যগুলিকে জিজ্ঞাসা করেছে—বিহারের তালিকাভুক্ত ১১টি নথি ছাড়াও আর কোন নথি ভোটাররা জমা দিতে পারবেন। কেউ কেউ আধার কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ড প্রস্তাব করেছেন। অসমের মতো কিছু রাজ্য নির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন তার আগের অবস্থান থেকে সরেনি। ২৪ জুনের নির্দেশনায় আধার, ইপিআইসি বা রেশন কার্ড অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় আধার গ্রহণ করতে হবে।

এই আবহে মমতা সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে যেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ নির্বাচনী কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছেন। সেই কার্ড বৈধ হলে অনেক নতুন ভোটার সহজে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণ করবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। রাজ্যের প্রশাসনিক সূত্রে খবর, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি দ্রুত প্রমাণপত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। একদিকে কেন্দ্র এবং কমিশন ভোটার তালিকায় নির্ভুলতা আনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার চায় রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বচ্ছ হোক। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই স্পষ্ট করবে—স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত